চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনা তদন্তে এ কমিটি গঠন করা হয়।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে (ডিটিও) কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ভাটিয়ারির বিএমএ গেট এলাকায় চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করেই ট্রেনের দুটি বগি থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। পরে আগুন পাশের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ছড়িয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় ট্রেনটির আগুন লাগা বগি ও ‘চ’ বগিকে বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রাম থেকে দুটি বগি ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে ট্রেনটির সঙ্গে সংযুক্ত করার পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। আগুন লাগার কারণে প্রায় আড়াই ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর ৮টা ৪০ মিনেটে চট্টগ্রামমুখী এবং ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকামুখী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সীতাকুণ্ডের বিএমএ গেট এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকামুখী যাত্রীবাহী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও পুরো ট্রেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগে ট্রেনের অক্ষত বগিগুলো ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেলওয়ে পুলিশের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৭টি বগি নিয়ে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি বিএমএ গেট এলাকায় পৌঁছালে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ‘চ’এর সামনে থাকা একটি পাওয়ার কারে আগুন ধরে যায়।

