নবজাগরণের আলোয় আলোকিত হয়েছে কচুয়াইয়ের আকাশ। অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সামাজিক সংগঠন ‘কচুয়াই ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এক অভূতপূর্ব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখরিত হয়ে ওঠেছিল।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয় হল রুমে এসএসসি/দাখিল ২০২৫-এ উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সংগঠনটি।

কেবল সাফল্যের উদযাপনই নয়, বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ার অনুপ্রেরণাময় প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠেছে। হাসি-আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষকের মুখ, যেন এক নতুন যাত্রার উদ্বোধন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সঞ্জীব ভট্টাচার্য্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পটিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন।
তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাখাতের সার্বিক বিষয়ে উন্নতি সাধনে প্রয়োজন শিক্ষাবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কচুয়াই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সংবর্ধনা যেনো মেঘের কোণে একটু আলোর ঝলকানি। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো এই সংবর্ধনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা।
প্রধান বক্তা হিসেবে চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মফজল আহাম্মেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কচুয়াই ফাউন্ডেশনের মহতী যেকোনো উদ্যোগে আমি সর্বোতভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।
মুখ্য আলোচক চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, এসএসসি’র ফল তোমাদের পরিশ্রমের ফল। কিন্তু সত্যিকারের জয় হলো সমাজের জন্য কাজ করা। এই ধরনের আয়োজন নি:সন্দেহে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।
বিশেষ অতিথি আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভৌতবিজ্ঞান) মুহাম্মদ মাহফুজুল আলম বলেন, এসএসসি পাশের পরের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে যে পরিমাণ শ্রম দেবে, পরের তা অন্তত দশগুণ হয়ে ফিরে আসবে। একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করে পড়তে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা আমাদের সংগঠনের একটি মাইলফলক। আমরা শুধু উদযাপন করছি না, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত গড়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হচ্ছি। এসএসসি-এর পর তোমাদের জন্য স্কলারশিপ, কোচিং এবং ক্যারিয়ার গাইডেন্সের ব্যবস্থা করব। কচুয়াইয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব আমাদের।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, কচুয়াই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে আমাদের মূল ফোকাস হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা। পরবর্তীতে আমাদের কার্যক্রম কচুয়াই পেরিয়ে বাইরে আরো বিস্তৃত করার ইচ্ছা আছে।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এশিয়া পেসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিয়াউল হুদা ফারুকী,
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ফারুকী, দপ্তর সম্পাদক আজাদ হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন মুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর হোসেন শিবলু, সহ-দপ্তর সম্পাদক শফিকুল আলম ফারুকী, ক্রীড়া সম্পাদক শুভজিৎ বিশ্বাস অভি, জাহাঙ্গীর আলম, আশিক, তাকাব, রানা, ইরফাত হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১২০ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। এই ইভেন্টটি কচুয়াই ফাউন্ডেশনের জনকল্যাণমূলক যাত্রায় এক নতুন মাইলফলক হয়ে ওঠেছে, যা গ্রামীণ বাংলাদেশের শিক্ষা-জাগরণকে নতুন গতি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।

