মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

ইপসা’র আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র মানুষকে জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ঘর হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ুজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস অন্যতম। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস, অতিরিক্ত জোয়ার, নদীর বাঁধ ভাঙন ইত্যাদি কারণে বন্যা পরিস্থিতি ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বাংলাদেশে সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস একটি সাধারণ বিষয় হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে বর্তমানে সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের ধরণ, তীব্রতা এবং সংঘটন মাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় নিম্নাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যাদের বাড়ি-ঘর প্রায়শই পানিতে ডুবে যায়, অল্প ঝড়েই ভেঙ্গে যায়, তারা এ ঝুঁকির সর্বোচ্চ পর্যায়ভুক্ত। এই প্লাবন-ঝুঁকি প্রশমন এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাথে খাপ খাইয়ে বা মোকাবেলা করে চলতে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে পল্লী র্কম -সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)  Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL)- প্রকল্পের আওতায় এসব অঞ্চলে বসতভিটা উঁচুকরণসহ জলবায়ু পরিবর্তন/দুর্যোগ সহনশীল ঘর তৈরির কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের পরামর্শের ভিত্তিতে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) কক্সবাজার জেলার, রামু উপজেলাস্থ দক্ষিণ মিঠাছড়ি, চাকমারকুল, ফতেখারকুল এবং খুনিয়াপালং ইউনিয়নে হতদরিদ্র মানুষের/পরিবারের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন/দুর্যোগ সহনশীল ঘর তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করছে। তারই অংশ হিসেবে  মঙ্গলবার  (২৫ মার্চ), ইপসা কর্তৃক নির্মিত ৯টি জলবায়ু পরিবর্তন/দুর্যোগ সহনশীল ঘর প্রকল্পের ৯জন উপকারভোগীর মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। স্থান-দক্ষিণপাড়া, ১ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, রামু, কক্সবাজার। হতদরিদ্র মানুষের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন/দুর্যোগ সহনশীল ঘর হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার  রাশেদুল ইসলাম।

- Advertisement -
হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে দুর্যোগ সহনশীল ঘরের চাবি হস্তান্তর করছেন রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার  রাশেদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন- এই প্রকল্পটি শুধু বাসস্থানের উন্নয়নই নয়, বরং দেশের দুর্যোগ মোকাবেলায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও পথ দেখাবে। ইপসা এমন একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যা শুধু দেশের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসরত জনগণের জন্য নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের জনগণের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যা তাদের জীবনযাত্রা ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ঘর প্রাপ্ত প্রত্যেক উপকারভোগীকে যথাযথ যত্নের সাথে ঘর সমূহ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন।

- Advertisement -shukee
ফিতা কেটে নতুন ঘর উদ্বোধন করছেন রামু ইউএনও রাশেদুল ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ঘর  হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম রীনা। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে এমন মহতি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পিকেএসএফ ও ইপসাকে ধন্যবাদ জানান। উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি ইপসা ও RHL টীমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগগুলো রামু অঞ্চলের জনগণের জন্য একটি নতুন আশার সঞ্চার করবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা এক প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে। এ  ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রামু প্রেস ক্লাবের  সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলিম উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,  ইপসাকে আন্তরিক ধন্যবাদ দরিদ্র কবলিত মানুষকে স্বপ্নের ঘর উপহার দেয়ার জন্য। যারা গত বছরেও বৃষ্টি ও বন্যায় নিজের ঘরে থাকতে পারেনি,  আশ্রয় নিতে হয়েছিল অন্যের ঘরে। সেই তারাই এবার জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ঘরে থাকবে, এ যেন তাদের কাছে আলাদিনের চেরাগের মতো।

দুর্যোগ সহনশীল ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন  মো. শহিদুল ইসলাম, ডেপুটি ডিরেক্টর এন্ড হেড অফ রোহিঙ্গা রেসপন্স প্রোগ্রাম, ইপসা। তিনি তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন,বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য, যেখানে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, শুকনো মৌসুমের জলাবদ্ধতা এবং নদী ভাঙন অব্যাহত থাকে। এসব দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজের হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগণ। তাদের জন্য বসবাসের নিরাপদ স্থান তৈরি করা একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই ইপসা আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় রামু উপজেলার হতদরিদ্র মানুষদের সাশ্রয়ী, টেকসই এবং দুর্যোগ প্রতিরোধক ঘর তৈরির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন,ইপসা আরএইচএল প্রকল্পের আওতায়, বিশেষভাবে বন্যা, সাইক্লোন, ও অন্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ঘরগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সেগুলো অধিক শক্তিশালী ও স্থায়ীত্বশীল হয়, যাতে দুর্যোগের সময়ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এবং আধুনিক প্রযুক্তি- যা ঘরের স্থায়ীত্ব ও টেকসই বাড়ায়।

এছাড়াও, এই প্রকল্পটি শুধু শারীরিক ঘর নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে, স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতিতে শাক-সবজি চাষ, ছাগল পালন, বসতভিটায় বৃক্ষরোপণ, কাঁকড়া চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে- যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের  আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সহায়তা করছে। এমনকি এই প্রকল্পের ফলে, তারা নিজেদের অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন  মো. হারুন, ফোকাল পারসন, ইপসা কক্সবাজার। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মো. আমিনুর রহমান,  প্রকল্প সমন্বয়কারী, RHL প্রকল্প, পম্পু বড়ুয়া,  এরিয়া ম্যানেজার, EDP ইপসা এবং ইপসা RHL প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও