বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল সোমবার একদিনেই রেকর্ড ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ভুল এবং অবহেলাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ, কিন্তু সেই সতর্কতা আমলে নেয়া হয়নি।
একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এসব বিস্ফোরক তথ্য জানান।

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত টিকা সংগ্রহ করে আসছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার হঠাৎ করেই ‘উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি’ (Open Tender Method) বা ওটিএম-এর মাধ্যমে ৫০ শতাংশ টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউনিসেফ তখনই উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিল, এই নতুন পদ্ধতিতে টিকা কেনাকাটা সম্পন্ন করতে অন্তত ১২ মাস সময় লাগতে পারে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করবে। কিন্তু সেই উদ্বেগ সত্ত্বেও সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ফলে যা হওয়ার তাই হলো টিকা সংগ্রহে মারাত্মক বিলম্ব ঘটে এবং ২০২৬ সালের শুরুতেই দেশজুড়ে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয় ।
ইউনিসেফ প্রতিনিধি জানান, তারা একাধিকবার অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি ও এর ফলে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালে ইউনিসেফ নিজস্ব তহবিল থেকে ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করে টিকার মজুত বজায় রাখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যথাসময়ে অর্থ ছাড় না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার মতে, বর্তমান সংকটের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে: ১. ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতা: ভুল নীতির কারণে টিকার তীব্র ঘাটতি। ২. তথ্য প্রকাশে বিলম্ব: দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও সরকারের নজরদারি ব্যবস্থা সেই তথ্য প্রকাশ করতে দেরি করেছে। ৩. সমন্বিত ব্যর্থতা: ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ধাপ পরিচালনা করতে না পারা এবং জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত মার্চ মাসে বিতর্কিত ‘উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি’ বাতিলের নির্দেশ দেন এবং এপ্রিলে পুনরায় ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইউনিসেফের হাতে আগে থেকে মজুত থাকা এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দিয়ে গত ১ এপ্রিল থেকে জরুরি ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।

