শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

৭ দফা দাবিতে বাসদ (মার্কসবাদী)-এর পথসভা অনুষ্ঠিত

বিদ্যুতের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহার, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেল-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল,রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার,জাতীয় ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণসহ ৭ দফা দাবিতে ১৬-২২ জুন  কেন্দ্রঘোষিত দাবি সপ্তাহে বাসদ ( মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ শুক্রবার ( ১৯ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের সিইপিজেড মোড়ে পথসভা ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

- Advertisement -

বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য জাহেদুন নবী কনক, তন্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।

- Advertisement -shukee

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি  সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গণশুনানিতে বারবার বলা হয়েছিল যে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর্থিক বোঝা এবং সিস্টেম লস কমানো গেলে বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।

বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার কার্যকরভাবে দাঁড়ায়নি। ফসল রক্ষার ব্যবস্থা যেমন নেওয়া হয়নি, তেমনি উৎপাদিত ফসল বিক্রির ক্ষেত্রেও কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। ফলে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে।”

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং ঐকমত্য কমিশনে যেসব বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী সংস্কারকে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বক্তারা বলেন, “দেশের সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহকে কার্যকর ও আইনগতভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আজও অনুপস্থিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মৌলিক প্রশ্নগুলো সমাধানের পরিবর্তে ইতিহাস পুনর্লিখনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছে। কোনো সরকার বা ব্যক্তি নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে একমাত্র ইতিহাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলে তা গণতন্ত্র ও বহুমতের জন্য ক্ষতিকর।

পথসভায় বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “প্রকাশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় জনগণের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হয়ে বরং হয়রানি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।”

বক্তারা বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের গণতান্ত্রিক সংস্কার, কৃষক-শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং এসব দাবির ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

৭ দফা দাবি

১.জ্বালানি তেল-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাও। সর্বজনীন রেশনিং চালু কর।

২.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল কর।

৩.জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত কর। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ কর।

৪.রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত কর। সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল কর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজসহ ৬টি মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত কর।

৫.শ্রমিকের ন্যূনতম জাতীয় মজুরি নিশ্চিত কর। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিনিকল-পাটকল চালু কর।

৬.কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত কর। সার, বীজ, কীটনাশকে পর্যাপ্ত ভর্তুকি নিশ্চিত কর।

৭.আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ কর। নারী নির্যাতন, ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত কর।

বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার দাবিতে নগরীর ইপিজেড মোড়ে বাসদ(মার্কসবাদী)-র বিক্ষোভ

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও