Thursday, 27 August 2026

[the_ad id='15178']

এমবাপের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ-এর প্রধান কোচ হোসে মরিনহো ১৩ বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরলেন । আর তার প্রত্যাবর্তনের রাতকে স্মরণীয় করে রাখলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদকে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে লা লিগায় মরিনহোর অধীনে টানা দ্বিতীয় জয় পেল দলটি। নতুন মৌসুমে নিজের গোলের খাতাও হ্যাটট্রিক দিয়ে খুললেন এমবাপে।

- Advertisement -

রিয়ালের হয়ে এমবাপের তিন গোলের সঙ্গে একটি গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সোসিয়েদাদের একমাত্র গোলটি আসে লুকা সুচিকের পা থেকে।

- Advertisement -shukee

এই হ্যাটট্রিকের পর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ ম্যাচে ৮৯। নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত ফর্মের ইঙ্গিত দিলেন ফরাসি অধিনায়ক।

মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে জয়টি এসেছিল অ্যাওয়ে মাঠে। এবার নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনহোর প্রত্যাবর্তন ঘিরে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। রিয়ালে তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৩ বছর পর আবারও বার্নাব্যুর দর্শকদের সামনে দাঁড়ান পর্তুগিজ কোচ।

স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত রিয়াল মাদ্রিদের হোম ভেন্যু সান্তিয়াগো বার্নাব্যু (Santiago Bernabéu) স্টেডিয়ামে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী (বৃহস্পতিবার) রাত ১:০০ টায় শুরু হয়। ম্যাচ শুরুর আগে মরিনহোকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় দর্শকরা। স্টেডিয়ামে তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে পুরো গ্যালারি।

এদিকে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সদস্য রিয়ালের ফুল-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়াকে ম্যাচের আগে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে তৈরি স্মারক নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন সোসিয়েদাদের মিকেল ওইয়ারজাবাল, যিনিও স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোলের সুযোগ তৈরি করে সোসিয়েদাদ। ওইয়ারজাবালের শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় রিয়াল। মাঝমাঠে আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের ও জুড বেলিংহ্যাম। ভিনিসিয়ুসের শট রুখে দেন সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো। এমবাপের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন তিনি।

অবশেষে ৪০তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। ফেদেরিকো ভালভার্দের দারুণ পাস পেয়ে প্রথম স্পর্শেই নিজেকে শট নেওয়ার অবস্থানে নিয়ে যান এমবাপে। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

দুই মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। তবে রেমিরোর দৃঢ়তায় তা হয়নি। বিরতির ঠিক আগে অবশ্য সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। সার্জিও গোমেজের পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে জব ওচিয়েংয়ের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে যায় সুচিকের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

 

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে রিয়াল। সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক রেমিরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন। এ সময় সাইডলাইনে বেশ উত্তেজিত ছিলেন মরিনহো। রেফারির কিছু সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাকে।

৬০তম মিনিটে আবারও রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপে। বাম প্রান্ত দিয়ে কুকুরেয়া ও ভালভার্দের সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি হয়। এরপর বেলিংহ্যামের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে সোসিয়েদাদের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। ঠান্ডা মাথায় রেমিরোর পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে করেন ২-১।

এর আট মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ায় রিয়াল। বেলিংহ্যামের প্রচেষ্টার পর বল পেয়ে ভিনিসিয়ুসের সামনে সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করে রিয়ালের লিড ৩-১ করেন।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপে। ভিনিসিয়ুসের নিখুঁত থ্রু বল পেয়ে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে চমৎকার চিপে বল জালে পাঠান তিনি।

রিয়ালের জার্সিতে এটি এমবাপের ৮৯তম গোল। মাত্র ১০৫ ম্যাচেই এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন তিনি। শেষদিকে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল ভিএআরের পর বাতিল হলেও তাতে রিয়ালের জয় আটকায়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

রিয়ালের দায়িত্বে ফিরেই মরিনহোর শুরুটা হলো টানা দুই লিগ জয় দিয়ে। এস্পানিওলের পর এবার সোসিয়েদাদের বিপক্ষেও জয় পেল দলটি—আর দ্বিতীয় ম্যাচে জয়টি এলো আরও দাপুটে পারফরম্যান্সে।

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও