“শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল (২৯ জুন) চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে ইপসা, ওয়ার্ল্ড ভিশন, ঘাসফুল, কারিতাসসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা।
যদিও প্রতিবছর ১২ জুন বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়, এ বছর সরকারি ছুটি থাকায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ জুন সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হয়।

বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় শিশুশ্রম প্রতিরোধ, শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলাজপ্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলাপ্রশাসক ঘোষণা দেন, বিভাগীয় প্রাথমিক স্কুল ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিশু জোবাইদার লেখাপড়া ও খেলাধুলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও ঘোষণা দেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের সকল ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জেলাপ্রশাসক সমাজের বিত্তবান, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, শ্রমিক দলের সভাপতি এম. নাজিম উদ্দিন, ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহিন, ঘাসফুলের কো-অর্ডিনেটর সিরাজুল ইসলাম, কিটস কালচারাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সৌরভ সাখাওয়াত, সংশপ্তকের নির্বাহী পরিচালক লিটন চৌধুরী, যুগান্তর সমাজউন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন পারভিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার জনি রোজারিও, অপরাজেয় বাংলাদেশের ম্যানেজার জিনাত আরা বেগম, প্রত্যাশীর সহকারী পরিচালক মো. সেলিমসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে ব্র্যাক, প্রত্যাশী, ইপসা, ঘাসফুল, সংসপ্তক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জেএসইউএস, কারিতাস এবং কিডস কালসহ বিভিন্ন সংস্থার ২০০ জন বেনিফিসিয়ারি র্যালি ও আলোচনা সভায় সক্রিয়ভাবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, শিশু অধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সমস্যা। শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করলেই একটি শিশুশ্রমমুক্ত, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

