বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

বন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি রুখে দেয়ার আহ্বান স্কপের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি দেশের জনগণ, শ্রমিক-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

- Advertisement -shukee

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান। উপস্থিত ছিলেন তপন দত্ত, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এসকে খোদা তোতন, কাজী আনোয়ারুল হক, খোরশেদুল ইসলাম, রবিউল হক শিমুল, হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বন্দর শ্রমিকনেতা আব্দুর রউফ লিটন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্দর শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাধীন অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।

দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। গণআন্দোলন, শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ এবং দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতিরোধের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন না করলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই।

আমরা জানতে পেরেছি, নতুন প্রস্তাবনায় শুধু এনসিটি নয়, সিসিটি, জিসিটি, ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কার্যত চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের জনগণের অর্থে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের শ্রমে এবং রাষ্ট্রের নিজস্ব বিনিয়োগে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত।

সিসিটি এবং এনসিটি-উভয়ই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত উল্লেখ করে বলা হয়, সিসিটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রতিষ্ঠিত এবং এনসিটিও তিনি উদ্বোধন করেছিলেন। এই টার্মিনালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় দক্ষতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে ‘বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর চলবে না’-এই প্রচারণা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বাংলাদেশের সব স্বনামধন্য ও দেশপ্রেমিক অর্থনীতিবিদেরা বার বার বলেছেন , বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দুর্বল হয়। একইভাবে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বন্দর, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর একটি ‘কি পয়েন্ট  ইনস্টলেশন’ এলাকা। এখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তৈলাধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দর অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা প্রশ্ন শুধু ব্যবসা বা মুনাফার বিষয় নয়-এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।

বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হলে-রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, বন্দর পরিচালনায় জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্কপের উদ্বেগ, তথ্য ও প্রস্তাব সরাসরি উপস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এটি হলে দেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে সরে আসবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে বলে মনে করেন স্কপ নেতারা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও