বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

ইপসা-জয়ন্তীঃ  ধারাবাহিক উন্নয়ন-অগ্রগতি ও অর্জনের উপাখ্যান

মোহাম্মদ ইউসুফ

ইয়ং পাওয়ার ইন সোস্যাল অ্যাকশান- ইপসা ৪১বছরে পদার্পণ করলো। চারদশকের বেশি সময় অতিক্রম করেছে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন-সংগঠন ইপসা। গতকাল (২০মে)  ইপসার মূল কার্যালয়সহ সকল শাখায় ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেক কেটে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়। সমাজউন্নয়নমূলক এ বেসরকারি সংগঠন জাতিসংঘ’র “ইকোনমিক এন্ড সোস্যাল কাউন্সিল” এর স্পেশাল কনন্সালটেটিভ স্ট্যাটাস পেয়ে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ইপসাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন- সমাজউন্নয়ন চিন্তক,শিক্ষানুরাগী গবেষক  ড. মো.আরিফুর রহমান। ইপসার ৪১তম জন্মতিথিতে সংগঠনটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রধাননির্বাহী আরিফুর রহমানকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পাশাপাশি শুভেচ্ছাভিনন্দন জানাই ইপসা পরিবারের সকল সদস্যকে-যাদের অক্লান্ত শ্রম-ঘাম ও আন্তরিক কর্মনিষ্ঠতায় ইপসা আজ ফুলে ফলে পল্লবিত ও সুশোভিত।

- Advertisement -

১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক যুববর্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভা সদরে প্রতিষ্ঠা হয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ংপাওয়ার ইন সোস্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি জনগোষ্ঠীর চাহিদাভিত্তিক এবং সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে ধারাবাহিভাবে বিভিন্ন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনীমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে সংস্থার ভিশন ও মিশন অর্জনে সচেষ্ট রয়েছে। এই সুদীর্ঘ চারদশকের পথচলায় ইপসা সরকারি,বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নিবন্ধন সহায়তা লাভ, বিশ্বস্ততা অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে নিবেদিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বীকৃতি লাভ ও পুরস্কৃত হয়েছে।

- Advertisement -shukee
ইপসার ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কাটছেন সংগঠনটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রধাননির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান

ইপসা আর আরিফুর রহমান একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ; বলা যায়,একই সূঁতোয় গাঁথা। নিরলস পরিশ্রম, সাধনা, অধ্যবসায় ও মেধার হিরন্ময় সমন্বয় ঘটিয়ে ইপসাকে সফলতার ঈর্ষণীয় উচ্চতায় আনার কৃতিত্ব আরিফুর রহমানেরই। ইপসা চট্টগ্রাম অঞ্চলে সামনের সারির একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা। সমাজের সার্বিক উন্নয়নে এ সংস্থা নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিশেষকরে দারিদ্র্য নিরসন, ক্ষুধামুক্তি,সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ,মানসম্পন্ন শিক্ষা,নারী-পুরুষের সমতা, সবার জন্যে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, শিল্প, অবকাঠামো ও উদ্ভাবন, নিরাপদ শহর ও জনবসতি, জলবায়ু, বাস্তুতন্ত্র ও প্রাণবৈচিত্র সুরক্ষা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃব্যবস্থা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি, অসমতা হ্রাস, দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন,জলজসম্পদ সংরক্ষণ, শান্তি,ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং উন্নয়ন ও অংশীদারিত্ব সর্বোপরি স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাইক্রোফাইন্যান্স এন্ড মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ কর্মসূচি, দারিদ্র্য দূরিকরণে দরিদ্র পরিবারগুলোর সম্পদ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সমৃদ্ধি) কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকায়ন ও অন্তভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি, কৃষি ইউনিট ও প্রাণিসম্পদ ইউনিট কর্মসূচি, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক কর্মসূচি, মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প, চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ইকো ট্যুরিজম শিল্পের উন্নয়ন শীর্ষক ভ্যালু চেইন প্রকল্প, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ফসল উৎপাদন ও বহুমুখি আয়ের উৎস সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্প, প্রক্রিয়াজাতকৃত ভোগ্যপণ্যের বাজার উন্নয়ন শীর্ষক ভ্যালু চেইন প্রকল্প, ভেটকি-কার্প-তেলাপিয়া মিশ্র চাষের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয়বৃদ্ধিকরণ কর্মসূচি, রেড চিটাগং ক্যাটল (আরসিসি) এর জাত সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি, উচ্চফলনশীল বারহি জাতের খেজুর চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মসূচি, গ্রামীণ স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচি ও ইপসা পিজিওথেরাপী সেন্টারসহ নানাবিধ প্রকল্প রয়েছে।

ইপসার ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখছেন সংগঠনটির প্রধাননির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান

ইপসার জন্মস্থান সীতাকুণ্ড হলেও দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব দুরিকরণসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সৃষ্টিশীল নানান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জায়গা করে নিয়েছে। অর্জন করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু সম্মাননা পুরস্কার। ১৯৮১-৯০ সালকে ‘যুব দশক’ ও ১৯৮৫ সালকে ‘আন্তর্জাতিক যুববর্ষ’ ঘোষণা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যখন সারা বিশ্বের যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে ঠিক সেই সময়ে মো.আরিফুর রহমান (ইপসা’র প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সদরে একটি যুবউন্নয়ন সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করে ১৯৮৫ সালের ২০মে সচেতন যুবকদের সক্রিয় উদ্যোগে যুব সংগঠন “ইয়ং পাওয়ার’ যা পরবর্তীতে সমাজ উন্নয়ন সংগঠন ইয়ং পাওয়ার ইন সোস্যাল অ্যাকশন (ইপসা) হিসেবে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পদযাত্রা শুরু করে। বর্তমানে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে ইপসা তার কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী মিশন-ভিশনের আলোকে মূল্যবোধকে ধারণ করে ধারাবাহিক অভিযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। সুদীর্ঘ এ চারদশকের পথচলায় ইপসা সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নিবন্ধন ও সহায়তা লাভ,বিশ্বস্ততা অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে নিবেদিত। সমাজউন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ইপসা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বীকৃতি লাভ ও পুরস্কৃত হয়েছে।

ইপসা ১৯৮৫-১৯৯০ সাল পর্যন্ত সৃজনশীল ও সক্রিয় একটি যুব সংগঠন হিসেবে স্থানীয় যুবকদের সাথে নিয়ে সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, ধূমপান ও মাদকতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং যুবসমাজকে সুরক্ষায় সফলতার সাথে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল দেশের স্মরণকালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ‘ম্যারি এন’র আঘাতে সীতাকুণ্ড ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুব সংগঠক মো.আরিফুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সমন্বয়ে ‘ইয়ং পাওয়ার’ এর যুব সংগঠকেরা জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সফল ও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয় এবং এ কার্যক্রম সকলের নজর কাড়ে। ফলশ্রুতিতে আরিফুর রহমান ‘ইয়ং পাওয়ার’কে নিয়ে তাঁর সম্ভাব্য শক্তিতে রূপকল্প তৈরিতে উৎসাহী হন। ১৯৯২ সালে ‘ইয়ং পাওয়ার’ কার্যক্রমকে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিয়ে নাম পরিবর্তন করে ‘ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন-ইপসা নামে একটি বেসরকারি অলাভজনক, অরাজনৈতিক সমাজউন্নয়ন সংগঠন হিসেবে রূপান্তর করা হয়। তিনি সকল বিপর্যয়, সংকটে এই সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠনের কাণ্ডারি ও দিশারী হিসেবে অত্যন্ত মুনশিয়ানার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক টেকসই সমাজব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম প্রসারের মাধ্যমে ইপসা ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

ইপসা-সংশ্লিষ্টদের সাথে ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রধাননির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান

ইপসা চট্টগ্রাম বিভাগসহ মোট ১৩টি জেলা যথাক্রমে, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি,বান্দরবান, ফেনী,কুমিল্লা,চাঁদপুর,কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ঢাকা ও গাজীপুর জেলায় পেশাদার উন্নয়ন সংগঠককে সাথে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে ও আর্ন্তজাতিক র্পযায়ে বিভিন্ন উন্নয়নবিষয়ক ফোরাম ও নেটওর্য়াক এর মাধ্যমে কর্ম বিস্তৃতি ঘটায় এবং সুনাম র্অজন করে। যুব ও উন্নয়ন র্কমসূচিতে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় ইপসা ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক যুব শান্তি পুরষ্কার লাভ করে। ২০১৩ সালে ইপসা জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরষিদ (ইকোসক) এর বিশেষ পরার্মশক পদর্মযাদাভূক্ত সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ইপসা চট্টগ্রামের প্রথম সরকার অনুমোদিত কমিউনিটি রেডিও ‘রেডিও সাগরগিরি এফএম ৯৯.২’ এর স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা সংগঠন। ইপসা সাংগঠনিক ভিশন-মিশন-মূল্যবোধকে ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং কর্ম এলাকার চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বা প্রকল্পসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে। বর্তমানে ইপসা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন মানবাধিকার ও সুশাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এই ৫টি থিমে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি মানুষের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ),বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ), একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)কর্মসূচি, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইপসা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি,লক্ষিত জনগোষ্ঠীর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি, গবেষণা ও অধিপরামর্শমূলক (এডভোকেসী) কর্মসূচিসহ তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রতিবন্ধী মানুষের অভিগম্যতা তৈরিতে বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প-যেমন একসেসএবল ডিকশনারী,একসেসএবল বুক রিডার, মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক, ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি বাস্তবায়ন করে সাফল্য অর্জন করেছে। এসব উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রমের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরষ্কার অর্জন করেছে। ২০২১ সনের  জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি এন্ড আইটিইউ কর্তৃক একসেস টু ইনফরমেশন এন্ড নলেজ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য ডব্লিউএসআইএস প্রাইজ-২০২১ পুরষ্কারের জন্য ইপসা চ্যাম্পিয়ন সংগঠন হিসেবে মনোনীত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে ইপসা বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সমাজকল্যাণ বিভাগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, কপিরাইট অফিস, রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এর নিবন্ধন লাভ করে। আইনি ভিত্তি লাভ করে ইপসা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এভাবে ইপসা বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে ইপসা সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে থেকে স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে সু-সমন্বয় করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। মিয়ানমার হতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যে চাহিদাভিত্তিক ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, আবাসন নির্মাণ ও সংস্কার, নারী,শিশু ও প্রবীণদের জন্যে দুর্যোগে সহনশীল এবং সহায়ক কেন্দ্র নির্মাণ এবং বিশেষায়িত সেবা প্রদান, জীবিকায়ন,পরিবেশ সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজসমূহ স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দের সাথে সু-সমন্বয় করে অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে। কোভিড-১৯ মহামারি ও লগডাউন চলাকালীন সময়ে ইপসা’র মানবিক কার্যক্রমসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে সাহস যুগিয়েছে ও সার্বিকভাবে সহায়তা করেছে। ইপসা’র পথ চলায় কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছে তিনহাজারের অধিক কর্মীবাহিনী ও সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিসমূহ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সুখি-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইপসা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।          পরিশেষে ইপসা’র জন্মদিনে ধারাবাহিক সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

৪১বছর পদার্পণে ইপসা পরিবার

ইপসার জন্মদিনে ড. আরিফুর রহমান যা বলেন-

গতকাল (২০ মে ২০২৬) ছিল আমার জীবনের অন্যতম অর্থবহ ও আবেগঘন একটি

দিন- যা আমার জীবনের দুটি শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ, আমার হৃদয় ও আত্মার সাথে গভীরভাবে জড়িত দুটি যাত্রাপথকে বহন করে।

এই ঐতিহাসিক দিনে, আমরা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছি। এটি এমন একটি সংস্থা, যা আমার কাছে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি কিছু। এটি আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম, আমার আশা, আমার পরিচয় এবং মানবতা ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি আমার আজীবন অঙ্গীকার। এর শুরু থেকেই, এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী হিসেবে এই যাত্রাপথে চলার সম্মান ও দায়িত্ব আমার ছিল, এবং এই পথের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ, ত্যাগ, সাফল্য ও রূপান্তর আমি প্রত্যক্ষ করেছি।

একচল্লিশ বছর শুধু একটি সংখ্যা নয়।

এটি সহনশীলতা, সহানুভূতি, সাহস এবং সম্মিলিত কর্মের এক কাহিনী।

এটি এমন অগণিত তরুণ-তরুণী, সদস্য, সহকর্মী, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক, সম্প্রদায় এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের লেখা একটি কাহিনী, যারা বিশ্বাস করতেন যে মানুষ যখন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে একত্রিত হয়, তখন ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

একটি ছোট স্বপ্ন থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উন্নয়ন সংস্থা হয়ে ওঠার পথে ইপসার যাত্রা কখনোই সহজ ছিল না। ছিল অনিশ্চয়তার মুহূর্ত, অবর্ণনীয় সংগ্রাম, বিনিদ্র রাত এবং কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু এর পাশাপাশি ছিল আশা, অনুপ্রেরণা, অসহায় মানুষের মুখে হাসি, যুবকদের ক্ষমতায়ন, উপেক্ষিতদের কণ্ঠস্বর এবং জীবনের রূপান্তর। সেই মুহূর্তগুলোই আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই বিশেষ দিনটি আরও বেশি আবেগঘন ও সুন্দর হয়ে ওঠেছে, কারণ গতকাল আমাদের প্রিয় কন্যা আফরা নাওয়ার রহমানের জন্মদিন—যে আমাদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আনন্দ ও আশীর্বাদ।

একজন বাবা হিসেবে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। একটি মেয়েকে বড় হতে দেখাটা অনেকটা ধীরে ধীরে আপনার জীবনকে উষ্ণতা, অর্থ এবং নিঃশর্ত ভালোবাসায় আলোয় ভরিয়ে তোলার মতো। আফরার উপস্থিতি আমাদের পরিবারে এবং ইপসা-তে অফুরন্ত সুখ, আশা এবং শক্তি এনে দিয়েছে। তার হাসি ক্লান্ত হৃদয়কে সারিয়ে তোলে এবং তার স্বপ্নগুলো একটি উন্নত বিশ্বের জন্য আমাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে।

তাই ২০ মে আমার হৃদয়ে মিশ্র অনুভূতি— কৃতজ্ঞতা, আনন্দ, স্মৃতিচারণ, দায়িত্ববোধ এবং গভীর আত্মসমালোচনা।

আমার জীবনের এক দিক উদযাপন করছে সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানবসেবার ৪১ বছরের এক যাত্রা, আর অন্য দিকটি উদযাপন করছে আমার মেয়ের অমূল্য জীবনকে, যে ভালোবাসা, ভবিষ্যৎ এবং অফুরন্ত সম্ভাবনার প্রতীক।

একই দিনে এই দুটি উদযাপনের সাক্ষী হতে পেরে আমি নিজেকে সত্যিই ধন্য ও সৌভাগ্যবান মনে করছি।

এই বিশেষ দিনে, আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই সেই সমস্ত মানুষদের প্রতি, যারা এই বছরগুলোতে ইপসা পরিবারের অংশ ছিলেন— আমাদের সদস্য, সহকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, অংশীদার, সমর্থক, বন্ধু এবং কমিউনিটি। আপনাদের বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সংহতিই এই যাত্রাকে সম্ভব করেছে।

আর আমার প্রিয় কন্যা আফরাকে— তোমার জীবন যেন সর্বদা প্রজ্ঞা, সহানুভূতি, সাহস, আনন্দ এবং মানবতায় পরিপূর্ণ থাকে। তুমি যেন একজন দয়ালু ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠো, যে যেখানেই যাবে সেখানেই আলো ছড়াবে।

আমি আপনাদের সকলের কাছে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি, আপনারা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) এবং আফরা নাওয়ার রহমানকে আপনাদের চিন্তা, ভালোবাসা এবং প্রার্থনায় রাখবেন।

ইপসা যেন মর্যাদা ও তাৎপর্যের সাথে মানুষের সেবা করার এই যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে এবং আফরা যেন আগামী দিনগুলো একটি সুন্দর, সুস্থ ও অর্থবহ জীবন লাভ করে।

কৃতজ্ঞতা, আবেগ এবং আশা নিয়ে এই যাত্রার অংশ হওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

লেখক- প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও