মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

কায়েস চৌধুরী এখন ব্যাংক এশিয়ার ডিএমডি ও অঞ্চলপ্রধান

মোহাম্মদ ইউসুফ

কায়েস চৌধুরীকে ব্যাংক এশিয়া পিএলসিতে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও অঞ্চলপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রিজিওনাল কর্পোরেট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

- Advertisement -

একজন ভালো ও দক্ষ ব্যাংক-কর্মকর্তা হিসেবে যা যা যোগ্যতা ও গুণাবলী থাকা দরকার তার সবটুকুই তাঁর মধ্যে রয়েছে। নিজ কাজকে তিনি আন্তরিকভাবে উপভোগ করেন। স্বচ্ছতা ও জাবাদিহিতায় থাকতে যিনি সর্বদা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। সঙ্গীতের প্রতি রয়েছে যাঁর বিশাল অনুরাগ। চিন্তা-চেতনা ও মননে তিনি একেবারেই আলাদা বৈশিষ্ট্যের সাদামনের আলোকিত একজন মানুষ।

- Advertisement -shukee

অত্যন্ত সৎ,কর্মঠ, নিষ্ঠাবান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা ব্যাংক-কর্মকর্তা কায়েস চৌধুরীর ব্যাংকিং কেরিয়ার শুরু ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক দিয়ে। সিটি ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম কর্পোরেট এরিয়া হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কঠোর পরিশ্রম, সাধনা ও একাগ্রতার মাধ্যমে নিবেদিতপ্রাণ এ ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মক্ষেত্রে বেশ সফল ও সার্থক হয়েছেন। সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর এ সফলতার নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ব্যাংক শাখা পরিচালনা করার মতো প্রশাসনিক দক্ষতা ও ব্যবসার নিরবচ্ছিন্ন উন্নতি ঘটানোর মতো সমূহ যোগ্যতা ও দক্ষতা রয়েছে তাঁর। আবেগপ্রবণ ও স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন কায়েস চৌধুরী গ্রাহক ও সহকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার পাশাপাশি সহকর্মীদের উদ্দীপিত ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করার ক্ষেত্রে রেখে চলেছেন অনন্য অবদান।

ব্রাঞ্চ ও কর্পোরেট ব্যাংকিং পরিচালনায় সফল ব্যাংকার কায়েস চৌধুরী উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসে অনেক শিল্পোদ্যাক্তা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পান। পেশাগত যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করে আসছেন। ব্যাংকিং পেশায় মনেপ্রাণে নিজেকে উজাড় করে দেয়া এ ব্যাংক কর্মকর্তা চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে রাখছেন অসামান্য অবদান।

সপরিবারে কায়েস চৌধুরী

ব্যক্তিগতজীবনে কায়েস চৌধুরী দুই পুত্রসন্তানের জনক। তিনি প্রখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নাতিন জামাই। দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর তাঁর শ্বশুর। তাঁর মা আরজুমান চৌধুরী; বাবা এ এন এম খালেদ চৌধুরী একজন নামকরা আইনজীবী ছিলেন।তাঁর সহধর্মিনী মুনীজা বশীর ঢাকা ব্যাংক পিএলসি’র আগ্রাবাদ শাখায় ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁদের বড়সন্তান মহিবুন নবী চৌধুরী কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অফ নিউফাউন্ডল্যান্ডে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছে। ছোট সন্তান যুহাইর রাফিদ চৌধুরী চট্টগ্রামের গ্রামার স্কুলে ‘এ’ লেভেলে পড়ছে।

কায়েস চৌধুরী ১৯৭০ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ, এম.কম (ফাইন্যান্স)। লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহ সেই ছোটবেলা থেকেই। ছাত্রজীবনে বিভিন্ন ম্যাগাজিন, দেয়ালিকা, পত্রপত্রিকায় লিখতেন; এখনো লিখেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও ব্যাংকিং, অর্থর্নীতি ও সমাজ সম্পর্কে তাঁর বহু তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম একাডেমি সম্মাননা অর্জন করেছেন। বহুগুণে গুণান্বিত এ মানুষটি একজন সংগীতশিল্পী ও সংগঠকও। এ পর্যন্ত ১৮টি মৌলিক গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সবগুলো গান তিনি তুলে ধরেছেন নিজের ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক ফেজ ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরমে। কথা ও সুরের ভিন্নতার কারণে গানগুলো বেশ সমাদৃত শ্রোতাদের কাছে। তিনি চট্টগ্রাম মিউজিক সোসাইটির আজীবন সদস্য। পাশাপাশি তিনি ব্যাংকার্স ক্লাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি।

সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কায়েস চৌধুরী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সদা হাস্যেজ্জ্বল একজন সজ্জন ও সদালাপী মানুষ তিনি। অমায়িক ব্যবহার ও সৌজন্যবোধের কারণে ব্যাংকপাড়ার বাইরেও রয়েছে তাঁর বেশ জনপ্রিয়তা।

লেখক- প্রধান-সম্পাদক, চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও