মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে নিজের এক বছরের অর্জনকে ‘এক যুগের সেরা পরিবর্তন’ হিসেবে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সীমান্ত বন্ধ করা, অর্থনীতির চাঙ্গা ভাব এবং অপরাধ দমনের সাফল্য তুলে ধরে তিনি ঘোষণা করেছেন, আমেরিকার ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন তাঁর সমর্থকরা ‘ইউএসএ’ ধ্বনিতে কক্ষ মুখরিত করে তোলেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই ভাষণে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত, আমাদের মনোবল ফিরে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত কমছে এবং মানুষের আয় বাড়ছে। মার্কিন অর্থনীতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আমাদের শত্রুরা এখন আমাদের ভয় পায়।’
সীমান্ত দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করার বিষয়টিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখান ট্রাম্প। তিনি ‘বৈধ’ অভিবাসন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা এবং বিতর্কিত গণ-ডিপোর্টেশন (বহিষ্কার) ড্রাইভ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
দেশজুড়ে অপরাধের হার কমার কৃতিত্ব নিজের ঝুলিতে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর শাসনামলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাকালে অপরাধের যে ঊর্ধ্বগতি ছিল, তা ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই কমতে শুরু করেছিল। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তিনি যখন দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন, তখন দেশের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল, যা এক বছরে তিনি আমূল বদলে দিয়েছেন।
ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ৮০ মিলিয়ন (৮ কোটি) ব্যারেল তেল সংগ্রহ করেছে। গত ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে ‘নতুন বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজের এক বছরের শাসনকালকে ‘ঐতিহাসিক রূপান্তর’ হিসেবে দাবি করলেও সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ধস নেমেছে।

