ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর শাহবাগে সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধরা। আজ শনিবার বিকেলে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে (আলটিমেটাম) শাহবাগের সমাবেশ শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জবাব দিতে না পারলে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

আজ শনিবার (২০ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এই আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজার পর শাহবাগে এই সমাবেশ শুরু হয়েছিল। সমাবেশের কারণে শাহবাগের সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সমাবেশে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, গুলির মুখে কথা কব’, ‘বাকশালিদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়। বিকেলে শাহবাগের সড়কে আসরের নামাজ আদায় করেন বিক্ষোভকারীরা।
পরে বিকেল সোয়া পাঁচটায় সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দুটি দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী) ও সহকারী উপদেষ্টাকে (খোদা বখস চৌধুরী) জনতার সামনে এসে বলতে হবে, গত এক সপ্তাহে তাঁরা কতটুকু এগিয়েছেন। এর জবাব দিতে না পারলে তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। সিভিল-মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের (সামরিক-বেসামরিক গোয়েন্দা) মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করুন।’
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক এখানে থাকব। কিন্তু আপনাদের একটু রেস্ট (বিশ্রাম) দিতে চাই। আপনারা আজকের জন্য বাসায় যান। আগামীকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার মধ্যে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জবাব না আসে, আমরা আবার এখানে আসব। অনেক ছাড় দিয়েছি, আর ছাড় দেব না।’

