আগের তিন ম্যাচে জয়হীন রিয়াল মাদ্রিদের সব ভার যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকা একাই করলেন চার গোল। তবে অলিম্পিয়াকোসের হার না মানসিকতায় লড়াই হলো জমজমাট। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত জয় পেল জাবি আলোনসোর দল।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রতিপক্ষের মাঠ কারাইস্কাকিস স্টেডিয়ামে ৪-৩ গোলের ঘাম ঝরানো জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। আর স্বাগতিকদের হয়ে গোল তিনটি করেন চিকিনিয়ো, মেহদি তারেমি ও এল কাবি।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে আগের দুই লেগের লড়াই হিসেবে মোট আটবার দেখা হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের। ঘরের মাঠে প্রতিবারই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছিল তারা; কিন্তু অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের জয় ছিল না একটিও। এবার সেই গেরোই কাটাল মাদ্রিদের ক্লাবটি।
পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্রাথমিক পর্বের টেবিলে পঞ্চম স্থানে উঠল প্রতিযোগিতাটির সফলতম ক্লাবটি। আসরে এখন পর্যন্ত জয়ের স্বাদ না পাওয়া অলিম্পিয়াকোস সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে আছে ৩৩ নম্বরে। আর ৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকা আর্সেনাল ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবশেষ ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে হারের পর লা লিগায় গত দুই রাউন্ডে হোঁচট খায় রিয়াল। সেই হতাশা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। অষ্টম মিনিটে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার চিকিনিয়োর গোলে এগিয়ে যায় অলিম্পিয়াকোস।
২২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে সমতা টানেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুবার জালে বল জড়িয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এমবাপ্পে।
ম্যাচে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক করতে সময় লাগে ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ড, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি মোহাম্মদ সালাহর দখলে, ২০২২ সালে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে হ্যাটট্রিক করেছিলেন লিভারপুল তারকা।
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া রিয়াল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের দেখা পেতে পারত। ৪৮তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেয়া জোরাল শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এর চার মিনিট পর হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ইরানের ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি।
৫৯তম মিনিটে রিয়ালের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুসের উঁচু করে বাড়ানো থ্রু বল আলতো শটে ব্যবধান ফের দুই গোলের করেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে ৯ গোল করে এখন আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। রিয়ালের জার্সিতে এই মৌসুমে তার মোট গোল হলো ২২টি।
তবে এই গ্রিক দলটি শেষের আগে যে হাল ছাড়তে রাজি নয়, তার প্রমাণ আরেকবার মেলে ৮১তম মিনিটে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে হেডে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড এল কাবি। এরপর রক্ষণে বাড়তি মনোযোগ দিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

