শনিবার, ২ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

জয়ের নায়ক শেখ মোরসালিন

ভারতকে ২২ বছর পর হারালো বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২২ বছরের অপেক্ষা একটা জয়ের জন্য । জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০০৩ সালে জানুয়ারির এক শীতের রাতে যে জয়টা শেষবারের জন্য ধরা দিয়েছিল, সেই স্মৃতি আবার ফিরে এলো সেই একই মাঠে। ভারতকে হারানোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলো অবশেষে। প্রার্থীত জয়ের নায়ক শেখ মোরসালিন।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর)  জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১১ মিনিটে আক্রমণসঙ্গী রাকিব হোসেনের দারুণ অ্যাসিস্টে নিঁখুত ফিনিশ করেন এ ফরোয়ার্ড। এরপর সেই লিড ধরে রাখার দীর্ঘ সংগ্রাম। শেষ মুহূর্তে পেয়ে বসেছিল গোল হজমের শঙ্কা। তবে এবার আর ভুল হয়নি। ভারতকে হতাশায় ডুবিয়ে বাংলাদেশ ভেসেছে জয়ের আনন্দে।

- Advertisement -shukee

এ নিয়ে চতুর্থবার ভারতকে হারালো বাংলাদেশ। ২৮ ম্যাচে যে ঐতিহাসিক দ্বৈরথ, তাতে অনেকদিন পর শেষ হাসি লাল-সবুজের সেনানীদের। তাই এ জয়ের উদযাপনটা যেন থামছিলই না। পুরো স্টেডিয়াম ঘুড়ে ঘুড়ে জয়পিপাষু সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন হামজা, রাকিব, মোরসালিনরা।

একটি প্রজন্ম ফুটবল মাঠে ভারতকে হারাতে দেখেনি। প্রেসবক্সে উপস্থিত সাংবাদিকদের একটা বড় অংশের সে অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই জয়টা ছুঁয়ে গেছে মিডিয়াকর্মীদেরও। পেশাগত পরিচয় ভুলে তারাই উন্মাতাল হলেন, আবেগে কারও চোখে ছিল আনন্দশ্রু।

এমন একটা জয় যেন প্রাপ্যই ছিল বাংলাদেশ। লেস্টার সিটি তারকা হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হওয়ার পর থেকেই শুরু অপেক্ষার। গত আট মাসে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হৃদয় ভাঙা আর্তনাদ সঙ্গী হয়েছে বারবার। চারদিন আগেও এ মাঠেই নেপালের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে নিশ্চিত হার মুঠো ফসকে যায়। এরপর থেকেই কু ডাক ডাকছিল। নেপালকে হারাতে না পারা বাংলাদেশ কী পারবে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ভারতকে হারাতে? এমনিতে টানা দুটি এশিয়ান কাপ খেলা ভারত দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিয়েছে। তলানীতে থেকে তারা এসেছিল প্রথম জয় ছুঁতে। তাই ম্যাচের আগেই জমজমাট এক লড়াইয়ের আভাস ছিল। হয়েছেও তাই।

ম্যাচের ১১ মিনিটে রাকিব হোসেনের গতি আর মোরসালিনের ক্লিনিকাল ফিনিশে লিড নেয় বাংলাদেশ। নিজেদের অর্ধে রাকিবকে থ্রু বাড়িয়েছিলেন মোরসালিন নিজেই। রাকিব সে বল নিয়ে মার্কার আকাশ মিশ্রকে গতিতে পরাস্ত করে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি পাস বাড়ান। দৌড়ে এসে মোরসালিন ভারত কিপার গুরপ্রিত সিং সান্ধুর দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে বুনো উল্লাসে মাতেন। বাংলাদেশের জার্সিতে মোসালিনের এটা সপ্তম গোল।

ম্যাচের ২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তারিক কাজী। তপুর বর্মণের সঙ্গে সেন্টারব্যাকের দায়িত্বে যান শাকিল আহাদ তপু। এই তরুণ তারিকের অভাব বুঝতে দেননি বাকী সময়টায়। ৩১ মিনিটে মিতুল মারমার ভুলে গোল হজম করতে পারতো বাংলাদেশ। তবে অসাধারণ সেভে সে যাত্রায় বাংলাদেশকে রক্ষা করেন হামজা। মিতুল গোলকিকে লো বিল্ড-আপ করতে গিয়ে গড়বড় করে ফেলেন। বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লালিয়ান জুয়ালা চাংতে বাঁ পায়ে শটে চেয়েছিলে বল অরক্ষিত পোস্টে পৌঁছে দিতে। তবে হামজা হেড করে কর্নারের বিনিময়ে সে চেষ্টা নস্যাৎ করে দেন।

সর্বশেষ

মহান মে দিবস আজ

এই বিভাগের আরও