শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

তারকারাও চান ধানের শীষের টিকিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বাড়ছে। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ধানের শীষের টিকিটে সংসদে যেতে চান শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরাও। তাদের কেউ কেউ রাজপথেও সরব ভূমিকা রাখলেও বেশিরভাগই চলচ্চিত্র, নাট্য ও সংগীত জগতের তারকা। সম্প্রতি তারা নিজ নিজ আসনে গণসংযোগ ও প্রচার শুরু করেছেন।

- Advertisement -

ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী তারকাদের মধ্যে রয়েছেন—কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, মনির খান, আসিফ আকবর, চিত্র প্রযোজক আবদুল মালেক, চিত্রনায়ক হেলাল খান, অভিনেতা বাবুল আহমেদ, খল অভিনেতা শিবা শানু এবং চিত্রনায়িকা শাহরিয়ার ইসলাম শায়লাসহ বিএনপির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের অনেক পরিচিত মুখ।

- Advertisement -shukee

কাজিপুর ও সদরের একাংশ নিয়ে সিরাজগঞ্জ-১ আসন। এখানে বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। কিন্তু ২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি। এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দল এবার মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে তার প্রত্যাশা। কনকচাঁপা বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বর্তমান

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সময়ের আলোকে কনকচাঁপা বলেন, দল ২০১৮ সালে আমাকে যে কারণে মনোনয়ন দিয়েছে; এবারও একই কারণে দল মূল্যায়ন করবে। আমি শিল্পী মানুষ। আমি মানুষের হৃদয়ে থাকি। মানুষ আমাকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করে। আশা করি তারাই আমাকে এগিয়ে রাখবে। তবু দল যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি তাতে সম্মান জানাব।

প্রায় তিন দশক ধরেই গানের সঙ্গে রয়েছেন মনির খান। সংগীতশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১৮ সালে মনোনয়ন না পেয়ে অভিমান করে পদত্যাগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তখনকার সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির খান। ২০০৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপিতে যুক্ত হয়ে যান। গানের মঞ্চের পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় থেকেছেন দেশের জনপ্রিয় এই গায়ক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসন থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান দেশের এই বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী।

মনির খান বলেন, মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এখন আমি এলাকায় আছি, পূজা উৎসবে জনসংযোগ করছি। সম্প্রতি লন্ডনে এক সাক্ষাতে নেতা তারেক রহমান আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে, তা হলে অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করব। তিনি বলেন, দীর্ঘ বছর পর নির্বাচনের একটি আলো দেখা যাচ্ছে। আমি নির্বাচনে লড়াই করব। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। সর্বোপরি মানুষের সাড়া পাচ্ছি। আমি অভিমান করে পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি নিই। কিন্তু দলের সঙ্গ ত্যাগ করিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন। কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসজীবন কাটিয়ে পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরেন এই সংগীতশিল্পী। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের কোনো স্টেজ শোতে দেখা যায়নি এই শিল্পীকে। জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিএনপির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কারণেই তার গানের কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত বাধা এসেছে বলে জানান তিনি।

বেবী নাজনীনের ছোট ভাই এনাম সরকার বলেন, তিনি এখন পূজা উপলক্ষে নিজ সংসদীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেবী নাজনীন প্রতি সপ্তাহে এলাকায় যাচ্ছেন। দলের প্রতি তার অনেক ত্যাগ রয়েছে। দল মনোনয়ন দিলে তিনি অবশ্যই এর প্রতিদান দেবেন।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরও কুমিল্লা অথবা ঢাকার একটি আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন চান। ইতিমধ্যে তিনি বিসিবির পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আসিফ আকবরের কণ্ঠ বরাবরই ছিল বিএনপির পক্ষে।

আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, গীতিকার এবং সুরকার ইথুন বাবু। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা সমাবেশে নেতাকর্মীদের গান গেয়ে উজ্জীবিত রাখেন তিনি। বিএনপির দুর্দিনের সময়ও মাঠে ছিলেন। ইথন বাবু বলেন, আমার নির্বাচন ইচ্ছা নেই। যারা ২০-২৫ বছর ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে; তারা নির্বাচন করুক। আমার বড় ভাই নওগাঁ থেকে ভোট করবেন। আমাকে দল অন্য কোথাও কাজে লাগালে আমি কাজ করব।

খল অভিনেতা চৌধুরী মাজহার আলী। মঞ্চ নাম শিবা শানু হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে অনেক বছর ধরে। আন্দোলন সংগ্রামেও তিনি জাসাসের হয়ে মাঠে ছিলেন। নিজের নির্বাচনি পরিকল্পনায় শিবা বলেন, আমার জন্ম বেড়ে ওঠা সবই ঢাকার ওয়ারিতে। কিন্তু দাদার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। দল যেখান থেকে বলবে সেখান থেকে কাজ করব। দল যদি না চায় তা হলে নির্বাচন করব না। দলের বাইরে কোনো কাজ করব না।

অভিনেতা ও জাসাস নেতা হেলাল খান সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালে নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। তখন ধানের শীষের টিকেট না পেলেও এবার বেশ আশাবাদী তিনি।

চিত্র প্রযোজক এম এ মালেক ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন। দলের প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক এই সভাপতি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে দলীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছেন।

অভিনেতা বাবুল আহমেদ মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। সময়ের আলোকে জাসাসের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি এখন কানাডায় আছি। দেশে ফিরেই এলাকায় যাব। মানুষের সঙ্গে আছি সবসময়। দল যদি মূল্যায়ন করে অবশ্যই কাজ করব। দেখা যাক দল কাকে মনোনয়ন দেয়। চিত্রনায়ক অমিত হাসান টাঙ্গাইলের একটি আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

চিত্রনায়িকা শায়লা

এ ছাড়া চিত্রনায়িকা শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা ফরিদপুর-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। ১৯৯৮ সালে চিত্রজগতে আসার পর থেকেই তিনি এ দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৮ সালেও ধানের শীষের টিকেট চেয়েছেন চিত্রনায়িকা শায়লা।

যোগ্যতা অনুসারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে বিএনপি মূল্যায়ন করবে জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলে পেশাজীবীদের অবদান এবং এলাকায় জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেয়া হবে। পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন। এ ছাড়া পেশাজীবীদের মূল্যায়নের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষের প্রস্তাবও করেছে বিএনপি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও