রাজবাড়ীতে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উপরে বিশেষ কায়দায় কবর দেওয়া নুরাল পাগলার মাজারে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেই সাথে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তৌহিদী জনতা নামধারী একদল মানুষ।
এসময় উত্তেজিত জনতা ও নুরাল পাগলার অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। মারা গেছে রাসেল মোল্লা নামের এক ব্যাক্তি। ভাঙচুর করা হয়েছে ওসি ও ইউএনও’র গাড়ি। এ ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো গোয়ালন্দজুড়ে।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল হক ওরপে নুরাল পাগল বহু বছর আগে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন দরবার শরিফ। এক সময় নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করে আলোচনায় আসেন তিনি। সারাদেশে গড়ে উঠে তার ভক্তানুরাগী। গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান নুরাল পাগল। পরে তাকে মাটি থেকে প্রায় বারো ফুট উপরে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ফুঁসে উঠে তৌহিদি জনতা।
আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুম্মার নামাজের পর কবরটিকে স্বাভাবিক করার দাবিতে গোয়ালন্দ আনছার ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তৌহিদী জনতা। একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলটি গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি ও ইউএনও গাড়িতে হামলা করে। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি নুরাল পাগলার মাজারের দিকে এগিয়ে যায়। একই সময় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিক্ষোভ মিছিল একত্রিত হয়ে ভাঙচুর চালায় নুরাল পাগলার মাজারে। এ সময় মাজারে থাকা ভক্ত অনুসারীদের সাথে দফায় দফায় বাধে সংঘর্ষ। এ ঘটনায় অন্তত শতাধিক আহত বলে দাবি করেছেন তৌহিদী জনতা।
উত্তেজিত জনতার দাবি, বিক্ষোভ মিছিলটি মাজারের সামনে আসলে নুরাল পাগলার ভক্ত অনুসারীরা তাদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি মৃত্যু হয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজিত জনতা ও নুরাল পাগলার অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় তার ও ওসির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থার বিরাজ করছে।

