রবিবার, ৩ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

মহান মে দিবসে শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ১লা মে চট্টগ্রাম ইপিজেড বে শপিং মার্কেট চত্বরে মে দিবসের চেতনায় শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে সমাবেশ,র‍্যালি ও গণসংগীত পরিবেশন করা হয়।

- Advertisement -

বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহবায়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহেদুন্নবী কনক, বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য দীপা মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি রিপা মজুমদার, ইপিজেড শ্রমিক কামাল উদ্দিন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন জেলা কমিটির সদস্য মো. ফরহাদ। সমাবেশের শুরুতে মে দিবসের গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন মন্দিরা বিশ্বাস,পুষ্পিতা নাথ,অর্পিতা নাথ।

- Advertisement -shukee

সমাবেশে বক্তারা বলেন,“মে দিবসের ১৩৯ বছর পরেও,বাংলাদেশে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি,  ৮ ঘন্টা শ্রমঘণ্টা, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা,নিরাপদ কর্মপরিবেশ,ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। রাষ্ট্রক্ষমতায় যে সরকারই আসে,তারা মালিকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করে। ছাত্রদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের রক্তের মধ্য দিয়ে ’২৪ এর এত বড় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পরও শ্রমিককে আজও মজুরি চাইতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ দিতে হচ্ছে। কয়েক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কিছুদিন আগেও শ্রমভবনের সামনে দিনের পর দিন শ্রমিকদের অবস্থান করতে হয়েছে। অথচ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই লক্ষ্যের কথা বলছে।দেশকে সত্যিকার অর্থে বৈষম্যহীন করতে চাইলে,দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে, আয় বৈষম্য-মজুরী বৈষম্য দূর করতে হবে। শ্রম সংস্কার কমিশন যে সুপারিশগুলো করেছে,প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সব শ্রমিকের স্বীকৃতি,ন্যূনতম জাতীয় মজুরি নির্ধারণ,তিন বছর পরপর মজুরি পর্যালোচনা,মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতিবছর মজুরি বৃদ্ধি,ছয়মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি,মজুরি প্রদানে দেরী হলে শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান,স্থায়ী কাজে আউটসোর্সিং বন্ধ, সব শ্রমিককে অভিন্ন শ্রম আইনের আওতায় আনা,ট্রেড ইউনিয়নের আইন সহজ করা, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আন্তর্জাতিকমানের করা ইত্যাদি এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ সংস্কার কমিশন মালিক, শ্রমিক, সরকারসহ সব পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে এসব সুপারিশ করেছে,ফলে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। এছাড়া শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের  দাবি অনুযায়ী শ্রম আইনের নিবর্তনমূলক ২৬ ধারা,যার মাধ্যমে মালিকের হাতে  শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে,তা বাতিলের সুপারিশ যুক্ত  করতে হবে। অবিলম্বে ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ২০ হাজার টাকা ও গার্মেন্টস সেক্টরে ২৫ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।”

মহান শ্রমিক দিবসের রক্তাক্ত ইতিহাসের তাৎপর্য তুলে ধরে  বলেন, ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে শ্রমজীবী মানুষের ৮ ঘণ্টা শ্রম, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা বিনোদন ও বাঁচার মত মজুরির দাবিতে যে উত্থান হয় তার ঢেউ পৃথিবীর দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক আন্দোলনে ভীত হয়ে তখন মালিক গোষ্ঠীর সহযোগীতায় রাষ্ট্র নির্মমভাবে হামলা চালিয়ে ৬ জন শ্রমিককে হত্যা করে। প্রহসনের বিচার করে ৪ জনকে ফাঁসি দেয়। এতো নির্মমতা সত্বেও শ্রমিকরা আরো দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবি এবং ১লা মে শ্রমিক সংহতি দিবস পালনের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়। মে দিবসের চেতনা হলো শ্রমিকের সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্তির লড়াই। ফলে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের দাবিতে একদিকে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলা, পাশাপাশি শ্রমিকের সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্তির লড়াই বেগবান করতে হবে।”

সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবিতে লালপতাকা শোভিত একটি মিছিল ইপিজে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও