বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মজীবীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) সম্পর্কে মৌলিক ও ব্যবহারিক ধারণা দিতে সম্প্রতি ঢাকায় চালু হলো ব্যাতিক্রমী ‘থিংক এআই ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্স। এটি মূলত: সম্পূর্ণ বাংলায় তৈরি একটি বিনামূল্যে এআই শেখার পদ্ধতি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা, বিশেষত যাদের বয়স ২৫ এর নীচে, তারা এআই এর গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করবেন।
এদিকে এই উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সারা বিশ্বে এআই খুব দ্রুতগতিতে বিশ্ববাজারে স্থান করে নিয়েছে। এই চাহিদার নিরিখে ও প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে দেশের ৫ কোটিরও বেশি তরুণদের জন্য এআই হতে পারে সম্ভাবনার নতুন দ্বার।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এই প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দেশের ডিজিটাল লার্নিং প্রতিষ্ঠান শিখোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহির চৌধুরী।
এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মেটার পাবলিক পলিসি স্ট্র্যাটেজির পরিচালক বেথ অ্যান লিম ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিজন ইসলাম।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যা। এর মধ্যে ৫ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বয়স ২৫-এর নিচে। এই বয়সী তরুণদের উদ্দেশ্য করে স্থানীয় ভাষায় এআই টুলস সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দিতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
কোর্সটি তৈরি করেছে দেশের নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল লার্নিং প্রতিষ্ঠান শিখো। আর এতে যৌথভাবে সহযোগিতায় ছিল বিশ্বস্বীকৃত বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ও জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম মেটা এবং আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স।
চারটি সহজ পাঠদানে সাজানো অনলাইনভিত্তিক এই কোর্সে এআই লিটারেসি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাক্ষরতা জ্ঞানের মৌলিক ধারণার পাশাপাশি রয়েছে জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নতুন টুলগুলোর কার্যপদ্ধতি, নৈতিকভাবে এআই ব্যবহারের প্রায়োগিক কৌশল ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের মৌলিক নির্দেশনা এবং এআই আমাদের জীবনে কিভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে ইত্যাদি। কারিগরি বা প্রযুক্তি সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তরুণরা এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার এবং তরুণ পেশাজীবীগণ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন। এই কোর্সটি ‘শিখো’র লার্নিং প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার দেশের শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে ডিজিটাল রূপ দিতে এবং অঞ্চলভেদে শিক্ষার মানে যে বৈষম্য রয়েছে তা দূর করতে কাজ করছে – যেখানে এআই থাকবে অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা পাঠ্যক্রমকে ডিজিটাল পাঠ্যক্রমে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি। ঢাকার সেরা শিক্ষকরা যে বিষয়বস্তুতে পাচ্ছেন, প্রত্যন্ত গ্রামেও সেই একই কনটেন্ট পৌঁছে যাবে। আমাদের ডিজিটাল ক্লাসরুম এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এআই-কে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর করতে হলে সবার আগে দরকার শক্তিশালী কানেক্টিভিটি ও ডেটা অবকাঠামো, যা গড়ে তোলাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।

