Wednesday, 16 September 2026

[the_ad id='15178']

বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সারসহ গ্যাসনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্বস্তি

গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি, দুই দিনে বাড়ল ২৭ কোটি ঘনফুট 

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্যভাবে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। দেশীয় উৎসের উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানোর ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান বেড়েছে ২৭ কোটি ঘনফুটের বেশি। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সারসহ গ্যাসনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এ তথ্য জানিয়েছেন।

- Advertisement -shukee

পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবারের মোট সরবরাহের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ধরে রাখার পাশাপাশি এলএনজির জোগান বাড়িয়ে চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। রোববার সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট। ফলে মঙ্গলবারের সরবরাহ সোমবারের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক ০৭ কোটি ঘনফুট। আর রোববারের তুলনায় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট।

অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধিকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশীয় উৎস ও আমদানিকৃত গ্যাসের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ কোটি ঘনফুট। সেই তুলনায় সরবরাহ এখনও চাহিদার চেয়ে কম হলেও সাম্প্রতিক দুই দিনে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে ঘাটতি কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো এবং দেশীয় উৎপাদন অব্যাহত রাখার ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সরাসরি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে। পাশাপাশি সার উৎপাদনসহ গ্যাসনির্ভর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে উৎপাদন কার্যক্রমে গতি ফেরার পাশাপাশি শিল্প খাতের ওপর চাপও কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব। সাম্প্রতিক দিনের সরবরাহ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জ্বালানি পরিস্থিতিতে আরও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও