যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগের মধ্যে আছে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ–পদোন্নতি–পদায়নে অনিয়ম–দুর্নীতি। অভিযোগের মধ্যে আরও আছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার–কেনাকাটায় দুর্নীতি।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক ইতিমধ্যে চার সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে।
উপদেষ্টা আসিফ ভুঁইয়ার কুমিল্লাপ্রীতি, নিলেন ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প
দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি টিমকে এই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্য যে তিনজনের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান করেছে, তাঁরা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদকের একটি সূত্র বলছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। পরে সেটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।

