মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী-শিশুসহ ৮জনের প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ নিহত হয়েছেন ৮জন । এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্প অভ্যন্তরে থাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তারা। ক্যাম্প প্রশাসন-রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন।

- Advertisement -

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

- Advertisement -shukee

উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শফিক বলেন, উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন ।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২ টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে ।

ক্যাম্পের মাঝি রফিক উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন-উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উখিয়ার ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি রশিদ উল্লাহ বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালগুলোতে ঘটতে পারে আরও ভূমিধস। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও