মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, পরিদফতর ও দফতরে নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন করে কিছু ক্ষেত্রে সম্মানীর হার বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে। আবার কয়েকটি খাতে আগের হার বহাল রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুন) অর্থ বিভাগ পরিপত্র জারি করেছে। এতে যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষর করেছেন। পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই নতুন হার কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবরের ৩৩০ নম্বর স্মারক বাতিল করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য জনপ্রতি সম্মানী আগের মতোই ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের প্রতি সভার জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিদিনের জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। আগেও এই দুটি ক্ষেত্রে একই হার নির্ধারিত ছিলো।Campaigns & Elections
আগের মতো উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৩০ টাকা এবং পূর্ণ অবজেকটিভ টাইপ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৫ টাকা করে সম্মানী দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
লিখিত, ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় আপ্যায়ন ব্যয় সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা ও ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুসারে নির্বাহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে দুপুর বা রাতের খাবারের ব্যয় ওই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদান করা যাবে এবং নাস্তার জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ দুইবার ব্যয় করা যাবে।
পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের প্রতিদিনের সম্মানী আগের মতোই গ্রেডভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সম্মানীর হার বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা, যা আগে ছিলো ১ হাজার ২০০ টাকা। ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১ হাজার ২০০ টাকা, যা আগে ছিলো ১ হাজার টাকা। আর ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১ হাজার টাকা, যা আগে ছিলো ৮০০ টাকা।
খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আগের মতোই প্রতিটি খাতায় ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা তার মনোনীত একজন সমন্বয়কারী সম্মানী হিসেবে পাবেন ৩ হাজার ৫০০ টাকা। লিখিত পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শক প্রতিদিন পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা। এ দুটি ক্ষেত্রেও সম্মানী অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুত (কাগজসহ) বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র তৈরি, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয় করার বিধান রাখা হয়েছে নতুন পরিপত্রে।
আগে কোডিং ও ডিকোডিং ফি ৩ টাকা, লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুত (কাগজসহ) বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা সম্মানি নির্ধারিত ছিলো।
ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি নতুন সংযোজন করা হয়েছে।
এছাড়া ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করার বিধান রাখা হয়েছে। আগে বিবিধ ব্যয়ের (কাগজ, কলম এবং আনুসঙ্গিক) পরিমাণ নির্ধারণ করা ছিলো ৮ হাজার টাকা।
নতুন পরিপত্রে এ ব্যয় নির্বাহের জন্য কয়েকটি শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব ব্যয় নিয়োগের জন্য বরাদ্দ করা বাজেটের নির্ধারিত খাত থেকেই নির্বাহ করতে হবে এবং এ বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না।
একাধিক পদের পরীক্ষা হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য নির্বাচন কমিটির সদস্য বা বিশেষজ্ঞরা একই দিনে জনপ্রতি একটির বেশি সম্মানী পাবেন না। একই কার্যদিবসে পদোন্নতি বা নির্বাচন কমিটির একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হলেও একটির বেশি সভার সম্মানী প্রাপ্য হবে না।
একই কার্যদিবসে লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে একাধিক পদের পরীক্ষা হলেও সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ দুটি সম্মানী পাবেন।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এ অর্থ ব্যয়ে সব ধরনের আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়করসহ সব সরকারি কর ও বিধিবদ্ধ কর্তন যথাযথভাবে পরিশোধ বা কর্তন করতে হবে।
স্কুল বা কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কোনো অবস্থাতেই ভেন্যু বা কেন্দ্র ফি কিংবা অন্য কোনো ধরনের চার্জ প্রদান করা যাবে না।
প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উত্তরপত্র নিরীক্ষণ, ওএমআর টপশিট মুদ্রণ বা ক্রয়, কোডিং-ডিকোডিং, জ্বালানি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং অর্থ বিভাগ নির্ধারিত হারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি এবং নিরীক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সব ব্যয়ের যথাযথ ভাউচার ও রসিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
পরিপত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, এ নির্দেশনা জারির পূর্ববর্তী সময়ের জন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া দাবি করা যাবে না।

