রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

আইনগত সহায়তাকে আরও কার্যকর করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় জরুরি

আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনগত সহায়তা নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের কার্যকর সমন্বয় জরুরি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে তথ্য বিনিময়, পর্যবেক্ষণ, সেবা রেফারেল, সমন্বিত পরিকল্পনা ও যৌথ বাস্তবায়নের ঘাটতি দূর করতে হবে। আইনগত সহায়তার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একসঙ্গে প্রচার চালাতে হবে।

- Advertisement -

আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্‌প) কর্মসূচি।

- Advertisement -shukee

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের লক্ষ্য দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তা পৌঁছে দেয়া। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আপসযোগ্য মামলার ৮০ শতাংশ মামলা এক দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। বাকি ২০ শতাংশ মামলা দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

আপসযোগ্য মামলার সংখ্যা নিরূপণ করার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তিন মাসের মধ্যে ৫০ হাজার মামলার আপস করতে পারলে পরিস্থিতি বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে দুই বছরের মধ্যেই আশানুরূপ পরিবর্তন সম্ভব হবে। মামলার হওয়ার আগে ও পরে মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

সরকারি ও বেসরিকারি যেসব প্রতিষ্ঠান আইনগত সহায়তা নিয়ে কাজ করছে তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, কীভাবে সমাধান হতে পারে তৃণমূল থেকে সুপারিশ পাঠান। আইন সংশোধন করতে হলে সেটাও সরকার যাচাই করে দেখবে। আইনগত সহায়তার বিষয়টি কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সচেতন হয়ে ওঠতে পারে।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জেবা আমিনা খান নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাম্পেইন ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. খাদেম উল কায়েস বলেন, কার্যকর তদারকি, সমন্বয় এবং সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী রেফারেল মেকানিজম ও সমন্বিত কমন ডেটাবেজ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত উদ্যোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, আইনগত সহায়তা সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিক্টিমদের জন্য সেফ হোম, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আইনগত সহায়তা ব্যবস্থার জন্য সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, আইনগত সহায়তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনগত  সহায়তা প্রদান আইনের মূল লক্ষ্য। তিনি আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক সেলপ কর্মসূচির লিগ্যাল এইড অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসির লিড এ টি এম মোরশেদ আলম। সভায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী, হিজড়া জনগোষ্ঠী, কারাবন্দি, প্রবাসী পরিবার, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ডিজিটাল আইনগত সহায়তা, অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রি-কেস মেডিয়েশন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক সেবা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি টেকসই ও সমন্বিত রূপরেখা তৈরি হবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও