শনিবার, ২ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘গণহত্যা’ সমর্থনের অভিযোগ

চবির আইন বিভাগের শিক্ষক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থী সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ক্যাম্পাসে এলে তাঁকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যায় সমর্থন দেয়ার অভিযোগ  রয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান।

- Advertisement -

জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর ক্যাম্পাসে উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসুর প্রতিনিধিরা আইন অনুষদে যান। এ সময় চাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পেছনের পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে দৌড়ে আটক করা হয়। আটককারীদের মধ্যে ছিলেন চাকসুর আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

- Advertisement -shukee

শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘গণহত্যা’কে সমর্থন করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে রোমান শুভর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন।

চাকসুর আইনবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী শাসনামলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে এমন মামলার উদাহরণও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।

আটকের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, ‘আমি কোনো মৌন মিছিলে অংশ নিইনি। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন আইনের শিক্ষক। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও অংশ নিইনি।’

শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করব? আমি বোর্ড অব রেসিডেন্সের সদস্য ছিলাম না। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, তাঁরা খবর পান একজন শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে আনা হচ্ছে।

প্রক্টর আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আগে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন এবং নীল দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পতিত আওয়ামী সরকারের সময় তিনি ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তাধীন। তবে শিক্ষক যদি আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করতেন, তাহলে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

প্রক্টরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের ওপর মব বা হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষকের শরীরে কোনো আঘাত করা হয়নি। তিনি আগে থেকেই ব্যাক পেইনে ভুগছিলেন, আতঙ্কের কারণে কিছুটা শারীরিক অস্বস্তি ছিলেন। আমরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দিয়েছি। তিনি সুস্থ আছেন ও এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন।’

সর্বশেষ

মহান মে দিবস আজ

এই বিভাগের আরও