লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ যেন মুহূর্তেই ভুলে গেলেন । যখন ম্যাচটি এগোচ্ছিল উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্তে, তখনই অধিনায়কের বাঁ পা থেকে বেরিয়ে এলো জয়ের সোনালি স্পর্শ। সেই গোলেই প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দিলেন মেসি। এরপর তার আরেক গোলে বিজয়ের হাসি হাসল আর্জেন্টিনা। শুধু জয়ই নয়, নিজের নামের পাশে যোগ করলেন আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়, আর মেসির পায়ে লেখা হলো আর্জেন্টিনার নতুন এক বিজয়গাথা।
ঊনিশ-কুড়িতে বিশ্বকাপ অভিষেক। সেই থেকে শুরু। এখন পর্যন্ত ধ্রুপদী ফুটবলে পুরো পৃথিবীকে বুদ করে রেখেছেন। দেখতে দেখতে, সংখ্যায়-সংখ্যায় গুনতে গুনতে মেসির বিশ্বকাপে গোল সংখ্যা এখন ১৮। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) মেসি ছুঁয়ে ফেলেছিলেন আগের ম্যাচে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করে।

এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করে মেসি ক্লোসাকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখা শুরু করলেন। যেই অধ্যায়ে এখন থেকে শুধুই হবে মেসি বন্দনা। প্রতিটি ঘামবিন্দু ঝরিয়ে তার অর্জিত প্রতিটি গোল পাবে নতুন মহিমা। স্রষ্টার কারিশমা, মেসির ইতিহাস গড়ার দিনে তাকে দিয়ে আরেকটি গোলও করিয়েছেন ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে। তাতে আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধানটা হলো ২-০। আর মেসির গোল হয়ে গেল ১৮।
প্রভাতের সূর্য কখনো পুরো দিনের পূর্বাভাস দেয় না। যদি দিয়েই থাকতো তাহলে মেসির জন্য আজকের দিনটা এমন সুখকর হতো না। ম্যাচের শুরুর কথাটাই ভাবুন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নবম মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন আর্জেন্টাইন যাদুকর। তাতে বিশ্বকাপে সবার্ধিক পেনাল্টি মিসের বিব্রতকর রেকর্ডকে সঙ্গী করে নেন।

শুরুর ওই ঝড় সামলে মেসি মাথা তুলে দাঁড়ান। পেনাল্টি মিসের ঝড় সামলে মেসি হয়ে উঠেন আরো দেদীপ্যমান। তার আলোয় উদ্ভাসিত হতে থাকে ডালাসের মেটলাইফ স্টেডিয়াম। ৩৭ মিনেটে চলে আসে সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত। যেই গোলের অপেক্ষায় ছিল গোটা দুনিয়া।
বক্সের ভেতরে সতীর্থ মেদিনার বাড়ানো পাস ফাঁকায় পেয়ে যান। এবার আর কোনো ভুল নয়। এবার কেবলই লক্ষ্যভেদ করার পালা। সেই বাঁ পায়ের একটু বাকানো শট। গোলরক্ষক ঝাপিয়ে মেসি গোলা আটকাতে পারেন না। মেসি আনন্দে আত্মহারা। আলবিসেলেস্তদের বাঁধানহারা উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে যায় গ্যালারিতে। বুয়েন্স আয়ার্স থেকে ঢাকার টিএসসি আকাশি-নীল উৎসব পেয়ে যায় জয়ের শুভাশিষ।

১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া। এরপর ফিরে আবার সেই মুহুর্মুহু আক্রমণ। মেসিকে আটকাতে অস্ট্রিয়া দেয়াল তৈরি করে। মেসিও সেই দেয়াল টপকে গোল মুখে বারবার এগিয়ে যায়। অবশেষে শেষ বাঁশি বাজার আগে দেখেন সফলতার মুখ। ৯৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে জটলা থেকে পাওয়া বলে শট নিয়েছিলেন। গোলরক্ষক ঢেকিয়ে দেন। আবার বল তার নাগালে। এবার একটু ডানপাশে চেপে গিয়ে জায়গা বানিয়ে আবার শট মেসির। এবার আর কেউ বাধা হতে পারেন না। মেসির শট খুঁজে নেয় জাল।
অস্ট্রিয়ার জালে শেষ পেরেকটি ঠুকে মেসি নিশ্চিত করেন দলের জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। এরপর শেষ মুহূর্তে আরেকটি স্পটকিকে মেসি প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন। তার দূরপাল্লার শট নেয়ার পরপরই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলার সমাপণী টানেন।
মেসি আরেকটি বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রতিটিতেই জায়গা করে দিয়েছেন দ্বিতীয় পর্বে।

