চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এন্ড কলেজ আবারও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিলা সুলতান বাণী জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা নতুন কুঁড়ি ২০২৫-এর আবৃত্তি শাখায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া শিক্ষার্থী কায়েরা জিকরা মুনতাহা আন্তর্জাতিক কারাতে প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চট্টগ্রামের সুনাম আরও উজ্জ্বল করেছে।

উল্লেখ্য, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়ি সর্বপ্রথম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর উদ্যোগে শুরু হয়।
এই অর্জনের পর আজ দুই শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে মেয়র শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন—
“সিটি করপোরেশন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মেয়র আরও জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুই প্রতিভাবান শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
সৌজন্য সাক্ষাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক এবং সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং পার্ক গড়তে চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চট্টগ্রামে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং পার্ক করার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর ) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শিকদার, ৭ এডি ব্রিগেড কমান্ডার এবং কর্নেল খলিল, কর্নেল এডমিন, চট্টগ্রাম এরিয়া ।
সভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের বিষয়টি আলোচনায় উত্থাপন করেন। তারা জানান, বর্তমানে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, যা একদিকে রোগীদের জন্য কষ্টকর এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। হাসপাতালটি নির্মাণ হলে চট্টগ্রামবাসী স্বল্প ব্যয়ে চট্টগ্রামে বসেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পাবে। হাসপাতালটি চসিকের কর্মরতদের নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে সেবা দিবে।
এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, কালুরঘাট বিএফআইডিসি সড়কের পাশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রায় আট একর জায়গায় হাসপাতালটি নির্মাণ করা সম্ভব।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের জনগণের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসতে চাইছে—এটা নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত শুভ উদ্যোগ। একজন চিকিৎসক ও চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে আমি এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
এছাড়া মেয়র জানান, বিএফআইডিসি রোডের অতিরিক্ত অবশিষ্ট ভূমিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করতে পারবে। এতে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্য কাঠামো, সুবিধা ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা মেয়রের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মেয়র এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেন।
মেয়র আরও উল্লেখ করেন, একসময় নগরীর সুস্থ বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল সার্কিট হাউসের সামনে অবস্থিত শিশু পার্কটি, যা বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। এই পার্কটি পুননির্মাণ করে আধুনিক শিশু পার্ক-এমিউজমেন্ট পার্ক এবং হাইটেক পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হলে শিশু ও পূর্ণবয়স্ক উভয়ের জন্য সুস্থ বিনোদন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই পার্কটি হবে সম্পূর্ণ সুস্থ বিনোদনের জন্য এখানে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা হবেনা। সেনাবাহিনী যদি এ প্রকল্পে ভূমি প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করে, তবে চসিক প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যৌথভাবে কাজ করলে নগরীর স্বাস্থ্য, বিনোদন ও বাণিজ্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল।

