আগামি প্রজন্মকে সুস্থ, সবল ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। কারণ ভেজাল ও জাঙ্কফুড জাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে শিশুরা অমনোযোগী, বখাটে, স্থুল ও রোগাক্রান্ত হচ্ছে। আবার খোলা, বাসি, ধুলা-বালি মিশ্রিত, দুষিত পানি ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জন্ডিস, হাঁপানী, ডায়বেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা প্রাণঘাতি রোগের আক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। আর জাঙ্কফুডে প্রয়োজনীয় খাদ্য-পুষ্টি নেই, প্রচুর চর্বি, চিনি ও লবণের আধিক্য। সেকারণে আলুর চিপস, ক্যান্ডি, পিৎজা, বার্গার, চমুসা, সিঙ্গারা, ফুসকা, কোমল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেড, চর্বি ও সোডিয়াম থাকায় অস্বাভাবিক স্থুলতা, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগ টাইপ, ডায়বেটিস, ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিস, লিভার রোগের সংক্রমন প্রচণ্ড আকারে বাড়ছে। তাই এখনই সময় “জাঙ্কফুড়কে না বলুন, আর মায়ের দেয়া বাসায় তৈরী খাবারকে হ্যাঁ বলুন”।
গত ২৪ ও ২৭ জুলাই চট্টগ্রামের কর্নফুলী উপজেলার এজে চৌধুরী বহুমুখি কৃষি উচ্চবিদ্যালয় ও চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে “মায়ের দেয়া বাসায় তৈরী টিফিন খাবো, বাইরে খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করবো” শিরোনামে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রচারণা কর্মসূচিতে উপরোক্ত আহবান জানানো হয়।

যুব ক্যাব কর্নফুলী উপজেলার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রচারণা কর্মসুচিতে অন্যদের মধ্যে এ জে চৌধুরী বহুমুখী কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেব চৌধুরী, সহকারী শিক্ষক আল আমিন মিঠুন, ক্যাব চট্টগ্রামের প্রকল্প সমন্বয়কারী শম্পা কে নাহার, বিভাগীয় কর্মসূচি সংগঠক রাসেল উদ্দীন, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য রাইসুল ইসলাম, ক্যাব যুব গ্রুপ কর্নফুলী উপজেলার সভাপতি আরেফিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সিদরাতুল মুনতাহা, সদস্য ইমরান হোসাইন তারা, সালাহউদ্দিন মুন্না ও মো. জুয়েল চৌধুরী সংহতি প্রকাশ করেন।
সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে নিরাপদ ও সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, শহরের অনেক ছাত্র-ছাত্রী জাঙ্কফুড গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে স্থুলতা, অমনোযোগী শিক্ষার্থীতে পরিণত হচ্ছে। যার ফলে মেধাবীর সংখ্যা শহরে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। সে কারণে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ ও দেশীয় ফল, শাক সবজি গ্রহণে আগামী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহবান জানানো হয়। প্রচারণা কর্মসুচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষ থেকে মুক্ত আলোচনায় নানান প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়।


