নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার (১৭ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর আদালত এই আদেশ দেন।

আদালতের শুনানিতে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আইভীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন। শনিবার দুপুরে শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। আদালতের এই শুনানিতে আইভী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
আইভীর পক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পাশাপাশি আমরাও চেয়েছি আইভীকে অন্যান্য মামলাগুলোতে যেন গ্রেফতার দেখানো হয়। কারণ সবগুলো মামলায় গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত আমরা সাবেক মেয়র আইভীর পক্ষে কোনো ধরণের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তাই আমরা বিপুল সংখ্যক আইনজীবী আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জের এই দুই মামলাসহ সবগুলো মামলায় গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়ার জন্য আদালতে হাজির হয়েছি। বিজ্ঞ আদালত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি আদালত পর্যায়ক্রমে অন্য দুটি মামলাতেও আইভীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেবেন। এরপর আমরা সাবেক মেয়র আইভীর পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবো। আমাদের বিশ্বাস মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে মামলাগুলোতে বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।’
জানা যায়, জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গত ৯ মে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খখলা বাহিনী। এরপর আদালতের নির্দেশে আইভীকে ওইদিনই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আইভীর জামিনের জন্য গত ১২মে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে আবেদন করা হলে সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
এর আগে গত ৯ মে আইভীকে গ্রেফতারের পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইভীর বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

