চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আমরা সকলে একসাথে এই উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এই দেশে প্রতিটি ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে তাদের নিজ নিজ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করে আসছে। এটাই আমাদের ঐতিহ্য। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এখন দেশের সংস্কৃতিরও অংশ হয়ে গেছে।
তিনি বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার বংশাল রোড়স্থ টেকপাড়া এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেনের উদ্যোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক হাজার মানুষের মাঝে চাল বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই উপহার সামান্য হলেও, এর মাধ্যমে আমরা আপনাদের উৎসবের আনন্দকে আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিতে চাই। সকলে মিলেমিশে এই উৎসব উদযাপন করুন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমি সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই বোনদের জানাই শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
তিনি বলেন, আমি সবসময় ঐক্যের পক্ষে। চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রীণ, হেলদি ও সেইফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে বিএনপি সরকার বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকায় রক্ষায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সকল সনাতনীরা নিশ্চিতভাবে দুর্গা পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারে। সরকারও চেষ্টা করছে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে।
মেয়র বলেন, আমি মেয়র হিসেবে নয়, জনগনের সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করে। এবারের পূজা উৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আমি মনে করি। সিটি করপোরেশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই, শৃঙ্খলা বজায় রাখুন, একে অপরকে সহযোগিতা করুন এবং উৎসবের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখুন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বিএনপির নীতি, এটাই বিএনপির রাজনীতি। স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু এসব নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু তত্ব না আসার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করেছিলন। আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করুক।
বিএনপি নেতা আবু নাছের সাজ্জাদের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, ইসমাইল বালি। বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, হামিদ হোসাইন, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক সাদেকুর রহমান রিপন, বিএনপি নেতা জাহেদ আহমেদ, রবিউল ইসলাম, মো. ওয়াসিম, ইমরান সিদ্দিকী জেকশন, কাশেম সওদাগর, শফি সওদাগর, আকবর বাচ্চু, জসিম উদ্দিন সেলিম, আবুল বশর, রহমান বক্স প্রমুখ।

