Thursday, 8 October 2026

[the_ad id='15178']

ফুটওভার ব্রিজটির নকশা, প্রস্থ ও নির্মাণকাজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান সিটি মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেকোনো ভালো উদ্যোগ নিলেই একটি মহল অনর্থক সমালোচনা শুরু করে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

তিনি বলেন,  ভিউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে যারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

- Advertisement -shukee

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, সরকারি গ্যাজেট এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, তবে তা অবশ্যই তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক হতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরের জিইসি মোড়ে নির্মাণাধীন ফুটওভার ব্রিজ পরিদর্শনকালে মেয়র ফুটওভার ব্রিজটির নকশা, প্রস্থ ও নির্মাণকাজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, প্রকৌশল ও স্থাপত্যের কারিগরি বিষয় না বুঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

অথচ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সরকারি গ্যাজেটে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করেই জিইসি মোড়ের ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এ সময় তিনি ফুটওভার ব্রিজটির নকশা, প্রস্থ, পথচারী চলাচলের সুবিধা এবং নির্মাণের কারিগরি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পরে তিনি জিইসি মোড় থেকে গোলপাহাড় পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিদর্শন করেন।

মেয়র বলেন, এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণের কাজ অত্যন্ত কঠিন ও কারিগরি দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর নকশা ও নির্মাণকাজের সঙ্গে চসিকের প্রায় ছয় থেকে সাতজন প্রকৌশলী এবং তিন থেকে চারজন স্থপতি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে চারদিক থেকে পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজে উঠতে এবং নামতে পারেন। ব্যস্ততম একটি মোড়ে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি বিবেচনা করেই এর নকশা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন, ফুটওভার ব্রিজটির হাঁটার জায়গার প্রস্থ কম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—এটি মানুষের হাঁটা ও নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে পণ্য বিক্রির জন্য কিংবা রাতে ঘুমানোর জন্য জায়গা তৈরি করা হয়নি। ফুটওভার ব্রিজের ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে হবে, সেটি আগে বুঝতে হবে। জিইসি মোড়ের আশপাশে বেশ কয়েকটি স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, রোগী, স্বজন, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকায় চলাচল করেন। তাদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করার জন্য এই ফুটওভার ব্রিজটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালকেন্দ্রিক মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সরকারি গ্যাজেটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মেয়র বলেন, বাংলাদেশ গ্যাজেট এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে নির্ধারিত মান অনুযায়ী অ্যাক্সেসেবল পাবলিক এক্সেসওয়ে, ফুটপাত, করিডোর ও ব্রিজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রস্থ ১ দশমিক ২ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ জিইসি মোড়ের এই ফুটওভার ব্রিজে আমরা বিভিন্ন স্থানে মাপ অনুযায়ী ১ দশমিক ৩ মিটার এবং ক্লিয়ার স্পেস ১ দশমিক ৪ মিটারও রয়েছে। ব্রিজে ১ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত প্রস্থ রেখেছি।  অর্থাৎ নির্ধারিত ন্যূনতম ১ দশমিক ২ মিটারের চেয়ে এখানে বেশি প্রস্থ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সময় ড্রেন ও ফুটপাত সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। নগরের বাস্তবতা, পথচারীদের চলাচল এবং বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনা করেই এর নকশা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো বিশেষজ্ঞের যদি এ বিষয়ে সংশয় থাকে, তাহলে তারা সরাসরি চসিকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কারিগরি বিষয় যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করা উচিত নয়।

চট্টগ্রাম নগরে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে ফুটওভার ব্রিজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চলতি মাসের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে জিইসি মোড়ের এই ফুটওভার ব্রিজ আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

এ সময় মেয়র জিইসি মোড় থেকে গোলপাহাড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং অবৈধ স্থাপনা ও পথচারী চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্থাপনা উচ্ছেদ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।

অভিযানকালে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার জিইসি, গোল পাহাড় মোড়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে দামপাড়া পর্যন্ত ফুটপাতে রাখা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও