Thursday, 24 September 2026

[the_ad id='15178']

আরও দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন মেরিন সেক্টরে : নৌপরিবহন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথনির্ভর। বিপুলসংখ্যক মানুষের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সমুদ্রভিত্তিক এই খাত সরাসরি যুক্ত। তাই মেরিন সেক্টরে আরও বেশি মনোযোগ, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

- Advertisement -shukee

নৌমন্ত্রী আরও বলেন, কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চট্টগ্রামের জুলদিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি একাডেমি আইএসও মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা সনদও বজায় রেখেছে। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ‘হোয়াইট লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর কোনো ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ঘাটতি রয়েছে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও বৃহত্তর স্বার্থে এই সম্ভাবনাময় খাতকে বিকশিত করার অঙ্গীকারে।

মন্ত্রী বলেন, যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকার পরও বাংলাদেশ এই সেক্টরকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। তবে অতীতের সীমাবদ্ধতার কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। মেরিটাইম খাতের অংশীজনদের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে চলমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে পিসিটি, এনসিটি, সিসিটি, লালদিয়া ও বে টার্মিনালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্বের বড় বন্দরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে কনটেইনার লোড-আনলোডসহ বন্দর পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।

লালদিয়া টার্মিনালের উন্নয়নে ডেনমার্কের এপি মুলারের সঙ্গে চুক্তি এবং বে টার্মিনালের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পিএসএর সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।

মেরিন ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দেন শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাডেটদের জাহাজে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। প্রশিক্ষণের পরপরই জাহাজে ওঠার সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশি জাহাজে বাংলাদেশি নাবিকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মেরিনারদের জন্য বিদ্যমান সুযোগগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকার উদ্যোগ নেবে।

তিনি বলেন, দেশের এই সম্ভাবনাময় খাতকে অযত্ন, অবহেলা ও বিনা পদক্ষেপে ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী মেরিটাইম হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ হলেও বৈশ্বিক সমুদ্রগামী নাবিকের বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো প্রায় ০.৩ শতাংশ। অথচ বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ সমুদ্রপথনির্ভর এবং দক্ষ সমুদ্রগামী নাবিকের চাহিদা রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি নাবিক তৈরি করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম বলেন, নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নৌচলাচল, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একাডেমি সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষিত পাঁচ হাজারের বেশি মেরিনার দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১২৫ জনের বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বৈশ্বিক মেরিটাইম শ্রমবাজারে বাংলাদেশের নারী মেরিনারদের অংশগ্রহণও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর ফজলার রহমান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিশ্ব নৌ দিবস ও একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল ক্যাডেটদের অভিবাদন, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, শোভাযাত্রা, বেলুন উড্ডয়ন, বিনোদন পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও