Tuesday, 8 September 2026

[the_ad id='15178']

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মুখে বললেও সরকারের কাজকর্মে ‘সবার পরে বাংলাদেশ’: আনু মুহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও কাজকর্মে ‘সবার পরে বাংলাদেশ’ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার তৎপরতা দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় সক্ষমতার জন্য বড় ধরনের হুমকি।’

- Advertisement -

মঙ্গলবার (৮ মেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন।

- Advertisement -shukee

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস। সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা শুনি “সবার আগে বাংলাদেশ”, কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে “সবার পরে বাংলাদেশ”। সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ কিংবা সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন স্বার্থ কিংবা সবার আগে ট্রাম্পের স্বার্থ।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘১৯৯৭ সাল থেকেই দেখছি, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তখন ২০০ বছরের জন্য একটি মার্কিন কোম্পানিকে বন্দর দেওয়ার প্রকল্প করা হয়েছিল।’

সরকারের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যে সমস্ত প্রশ্ন করছি, কিংবা আমরা যে সমস্ত যুক্তি দিচ্ছি, তার কোনো পাল্টা উত্তর নেই। তারা যুক্তি দিয়ে চলে না, তারা জোর-জবরদস্তি দিয়ে চলে।’ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি নিয়ে মাশুল বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে বিদ্যমান মাশুলে লাভ হচ্ছে, সেখানে কী যুক্তিতে মাশুল বাড়ানো হবে? মাশুল বাড়ানো মানে আমদানি খরচ বাড়বে, রপ্তানি খরচ বাড়বে, অর্থনৈতিক উৎপাদনের যে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা, সেটা কমবে। মাশুল বাড়ানো হবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের লাভ নিশ্চিত করার জন্য।’

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের যত আমদানি-রপ্তানি হয়, তার ৭০ থেকে ৯০ ভাগ এই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। তার আবার বড় অংশ হচ্ছে এনসিটি, এই টার্মিনাল থেকেই হয়।’

তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ ইউনূসের (সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস) ভাষায় যেটা “হৃৎপিণ্ড”, সেইটা আপনি আরেকজনের হাতে তুলে দিলে সেটার সঙ্গে কোনো তুলনীয় বিষয় হতে পারে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, ‘আগে যে কথা বলে অন্যান্য বন্দরগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে আমরা আশানুরূপ ফলাফল পাইনি। নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের দিলে যে সক্ষমতা তৈরির কথা বলা হচ্ছে, তা কি আমরা কাজে লাগাতে পারব?’

তিনি বলেন, ‘রামপাল, রূপপুরের পেছনে অনেক খরচ হয়েছে, কিন্তু এখন সংকটের সময় এগুলো কাজে লাগছে না। বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়া তো দূরের কথা, বন্দর সক্রিয় করতে বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যে ইউনূস সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়েছিল তারাও যে চুক্তিগুলো করেছেন, তার সবগুলোই দেশের স্বার্থবিরোধী। নির্বাচিত সরকারও ইউনূস সরকারের পথেই হাঁটছে। লাভ-ক্ষতির কোনো বিষয় নেই এখানে। পুরো বিষয়টাই এখানে অধীনস্ততার, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষার।’

মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস চলে গেল, কিন্তু বন্দরের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার সংসদে আলোচনা করতে পারল না। এত বছর এখানে বিদেশি পরিচালক প্রয়োজন হলো না, এখন কেন দরকার হচ্ছে? কারণ, এখন বিদেশিদের দেয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও