রোটারি ক্লাব অব চিটাগং ইম্পারিয়ালের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অভিষেক অনুষ্ঠান গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) দ্য গ্রিন শ্যাডো রূফটপ রেস্টুরেন্টে ক্লাব সভাপতি রোটারিয়ান উজ্জ্বল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। দুজন পেশাজীবী ব্যক্তিকে রোটারিতে অন্তর্ভুক্তকরণ,পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্যে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার,সুবিধাবঞ্চিত দুই মহিলাকে সেলাইমেশিন বিতরণ,মনোমুগ্ধকর সংগীতের সুরমুর্চ্ছনা, র্যাফলড্র ও ফেলোশিপ ডিনারের মাধ্যমে অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং সফলভাবে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
পিপি রোটারিয়ান আবদুল হাকিমের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, পিপি রোটারিয়ান মাসুদুর রহমান মজুমদারের রোটারি প্রত্যয় পাঠন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ক্লাব সদস্য এবং রোটারি পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি ছিলেন রিপসা টিমের প্রধান উপদেষ্টা পিডিজি এম এ আউয়াল পিএইচএফ বি এমডি।


বিশেষ অতিথি ছিলেন পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর ও পিডিজি প্রফেসর ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী, বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং গেস্ট অব অনার ছিলেন আবুল খায়ের স্টিল এন্ড মেল্টিং লিমিটেডের সিইও রোটারিয়ান পিপি ইমরান মোমিন পিএইচএফ এমডি।
ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রোটারিয়ান নজরুল ইসলাম নান্টুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি পিডিজি এম এ আউয়াল শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁর সহধর্মিনী পিডিএফএল খালেদা আদিব আউয়ালকে লাউডস্পীকার হস্তান্তর করলে তিনি বলেন,“ আমরা ৫০বছর ধরে রোটারিতে আছি এবং আমৃত্যু রোটারির মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবা করে যাবো। রোটারির আদর্শ এবং কর্মতৎপরতা সকল রোটারিয়ানদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে আসুন, আমরা সবাই মিলে জনকল্যাণে কাজ করি।”
পিডিজি ড. তৈয়ব চৌধুরী বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এমনসব বিষয় পড়ানো হচ্ছে, বাস্তবজীবনে যা কোনো কাজে আসে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে রাষ্ট্র প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। রোটারির বর্তমান দৈন্যদশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “রোটারির নীতি-আদর্শ ক্লাবগুলো সঠিকভাবে পালন করছে না, ঠিকমতো মিটিং হচ্ছে না। নারী ও তরুণ সদস্য বাড়াতে হবে; শুধু বুড়োদের দিয়ে রোটারি চলবে না। এভাবে চলতে থাকলে রোটারি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডিশনাল ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন,“শতবর্ষেরও বেশি আগে বিশ্বের সর্ববৃহত সেবাধর্মী ক্লাব রোটারির জন্ম হয়। রোটারি ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, যেটি মানবসেবা করে, সকল প্রকার পেশার ক্ষেত্রে উচ্চনৈতিক মানসম্পন্ন হতে উৎসাহিত করে এবং সারা বিশ্বে সৌভ্রাতৃত্ব ও শান্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সরকারের পাশাপাশি রোটারি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো মানবকল্যাণে কাজ করছে। এছাড়া তিনি চারদশক ধরে দেশজুড়ে আলোচিত ‘দেশের মধ্যে আরেক দেশ’ হিসেবে গড়ে ওঠা মাদক, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্য জঙ্গল সলিমপুরকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে তাঁর নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা অসম্ভব। তাই, তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলকে মাদক, সন্ত্রাস ও অস্ত্রমুক্ত করতে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সম্মানিত অতিথি রোটারিয়ান ইমরান মোমিন বলেন, “রোটারিয়ানেরা হলেন সকল সমস্যা সমাধানকারী। সমাজের বিরাজমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে রোটারিয়ানেরা নিরলস কাজ করছে। তাই,রোটারিয়ানদের শুধু পেশাগত ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সেবা-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
এসময় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় ক্লাবসদস্যের সন্তান ফাইয়াজু ইসলাম ও মাইসা রহমানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অ্যাডভোকেট দেবাশীষ বড়ুয়া ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী জাফর আলমকে রোটারি পিন পরিয়ে নতুন সদস্য হিসেবে বরণ নেয়া হয়। এছাড়া নুরজাহান বেগম ও নুসরাত জাহান মিথিলা নামক সুবিধাবঞ্চিত দুজন মহিলাকে সেলাইমেশিন প্রদান করা হয়।


