অতিসম্প্রতি চট্টগ্রামের কিছু খাদ্য ও মিস্টান্ন ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টিজে চেম্বার নেতৃবৃন্দকে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলেছেন,সরকারের কিছু সংস্থা ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছেন। বিষয়টি ক্যাব চট্টগ্রামের দৃষ্টি আকর্ষিত হবার পর দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও নগর কমিটির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী সমাজের কাছে প্রশ্ন- তাঁরা কি আমাদেরকে আদিম যুগে ফেরত নিতে চান? কারণ প্রতিনিয়ত জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই এর বাজার তদারকি অভিযানে বিভিন্ন নামিদামি খাদ্য উপৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোরায় ও দোকানে চাঞ্চ্যলকর ও অভিনব কায়দায়, খাদ্য ভেজাল, নিন্মমানের ও মানহীন ক্যামিকেল মিশ্রণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও বিপনন এবং পরিবহনসহ প্রতারণামূলক নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এ সমস্ত তদারকি প্রতিষ্ঠানের উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশোধন ও উন্নয়ন না করে উল্টো এসমস্ত অভিযান বন্ধ করার জন্য নানা ধরনের ফন্দি ফিকির ও অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে যাচ্ছেন। যা পুরো দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করছেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এধরনের হটকারী ও দেশবিরোধী চক্রান্ত থেকে সরে এসে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির আধুনিকায়নে মনোনিবেশ করার জন্য এসমস্ত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

সোমাবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শত বছরের পুরানো চট্টগ্রাম চেম্বার শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে না, এটি এতদাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার পরিত্রানেও অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। আবার গুটিকয়েক খাদ্য ও মিস্টান্ন ব্যবসায়ীরা এব্যবসার সাথে যুক্ত হলেও সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরাও এখাতের ভোক্তা। তাই এখানে ভেজাল ও মানহীন খাবারের ছড়াছড়ি হলেও তাঁরা ও তাদের পরিবার-স্বজনরাও রেহাই পাবে না। সেকারণে গুটিকয়েক মুনাফালোভীর একতরফা বক্তব্যে সায় না দিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ চিন্তা করে পদক্ষেপ নিবেন -এ প্রত্যাশা করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ২০ জুন চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য আদালত (চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা) মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্তদ্রব্যের (প্লাস্টিক) ব্যবহার-উপস্থিতি, খাদ্যপণ্য (চানাচুর, চিড়া, বুট) উৎপাদনে পোড়াতেলের ব্যবহার ও প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যদ্রব্য মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে (বিভিন্ন পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ) খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার, খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ, পাতলা পলিথিন, খবরের কাগজের ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ, নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোড়কীকরণ না করাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণসহ নানাবিধ অসঙ্গতি হাতে নাতে প্রমাণ পান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভোক্তারা প্রতিনিয়ত এধরনের হাজারো প্রতারণা ও বঞ্চনার শিকার হলেও সরকারের মাননিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরবতার কারণে তার কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। ফলে খাদ্যবাহিত শত শত রোগে পুরো জাতি আক্রান্ত। যার জলন্ত দৃষ্টান্ত নগরীর হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনিস্টক সেন্টারগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। এমন কোনো পরিবার পাওয়া যাবে না, যেখানে প্রতিদিন কোনো না কোনো ওষুধ সেবন করতে হয় না। ডায়বেটিস, ক্যান্সার, লিভার, হৃদরোগসহ নানা প্রাণঘাতি রোগে অধিকাংশ মানুষই আক্রান্ত। মনে হবে পুরো জাতিই রোগাক্রান্ত। তাই জাতিকে এ অবস্থা থেকে বাঁচাতে সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম জোরদার করার বিকল্প নেই।

