সংসদে উপস্থিত সকলকে সালাম দিয়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া
জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদ চলাকালে রাত ৮টা ৭ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি সকলকে সালাম দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
এদিন রাত ৮টার দিকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কার্যাবলি শুরু হয়। সেখানে বিল উত্থাপনের আগে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলের দাবির কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে বিল উত্থাপনের পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে বিরোধী জোটের অন্য সদস্যরাও ওয়াকআউট করেন।

এর আগে, বেসরকারি দিবসে (বৃহস্পতিবার) তিনটি সরকারি বিল উত্থাপন করার কার্যক্রম শুরু করলে সংসদে দাঁড়িয়ে যান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শেষ পার্যায়ে বিল, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এটাই জানতাম যে, বেসরকারি দিবসটা বেসরকারি সদস্যদের জন্য। কিন্তু সবকিছুতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাজের মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হবে। আমরা সেই চাপা দেওয়ার পক্ষে নই।’
সংস্কারের দাবিতে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থানে আছি। আমরা এখান থেকে সরিনি—অফিশিয়ালি, নন-অফিশিয়ালি।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাইরে অনেকবারই অনুরোধ করা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের কমিটিতে আসেন। একটা কমিটি এখানে পাস হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদ ছিল। আমরা অংশগ্রহণ করিনি। ’
তিনি বলেন, ‘পরে আমরা যখন বললাম, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনও কমিটি হওয়ার কোনও বিধান নেই, তখন আমরা শুনলাম যে, এর আগে একটা বিশেষ শব্দ বসানো হয়েছে। সেই বিশেষটা এখানে পাস করা হয়েছে কি না, আমি জানি না।’
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘একটা কমিটি যদি আসলে এই হাউস থেকে পাস করানো হয়, তাহলে তার প্রত্যেকটি অক্ষরও এখান থেকে পাস করাতে হবে। সেটা তো হয়নি। ওইটার পক্ষে আমরা ছিলাম না। বড় কথা এটা নয়। আমি বলছি, এখানে প্রসিডিউরটা মেইনটেইন করা হয়নি।’
স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এখন যে বিষয়টা আপনি উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন, আমরা যেহেতু বৃহত্তর স্বার্থে পুরো সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এভাবে কোনও প্রসেসের অংশ হতে চাই না।’
এর পরই সংসদ অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো না। এ পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আবার ওয়াকআউট করছি। আমরা আবার যখন উপযুক্ত মনে করবো, তখন ইনশাআল্লাহ আমরা আসবো, অংশগ্রহণ করবো, জনগণের পক্ষে কথা বলবো।’
ওয়াকআউট ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে। বাট সংসদের ভেতরে সবকিছু আলোচনা করা দরকার। না হলে জাতি কী পাবে?’
বিরোধীদলীয় নেতাকে অধিবেশনে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো, আপনারা বসেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক থাকবে। বিতর্কের মধ্য দিয়েই তো জাতি পরিচালিত হবে আপনাদের নেতৃত্বে।’
এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

