Friday, 14 August 2026

[the_ad id='15178']

সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৮ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের একটি এলএনজি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

- Advertisement -

জাহাজটিতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় তল্লাশি চালাতে ভাটার জন্য অপেক্ষা করছে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় লোকজনের শঙ্কা, ভেতরে আরও লাশ থাকতে পারে।

- Advertisement -shukee

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন ঘটনাস্থল থেকে বলেন, সীতাকুণ্ডে দুইটি লাশ রয়েছে।

চমেক হাসপাতালে ৬টি লাশ রয়েছে। সব মিলে ৮টি লাশ।

মৃত্যুবরণকারী ৮ শ্রমিকের মধ্যে ৫ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), হাবিবুর রহমান (৫০) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)।

ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমাদের নিকটতম কুমিরা ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট, রেসকিউ ভ্যান, অ্যাম্বুল্যান্সসহ তারা এসেছে। তারা তিনটি লাশ এবং দুইজনকে প্রথমে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। সবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় ফোরম্যানকে উদ্ধার করে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এখানে এসে জানলাম, আমরা আসার দু-আড়াই ঘণ্টা আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু লোককে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেছেন। এখন সাগরে সম্পূর্ণ জোয়ার চলছে। আমরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ অপেক্ষা করছি জোয়ারের পানি নেমে ভাটা আসলে সর্বশেষ তল্লাশি (সার্চ) করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আসার পর গ্যাসের বা কেমিক্যালের দুর্গন্ধ ছিল। জোয়ারের পানি ঢোকার পর থেকে দুর্গন্ধ নেই। কার্বন মনোঅক্সাইড বা কার্বন থেকে উপজাত গ্যাস থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ। ২০-২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়। জাহাজে এলএনজির অনেক উপজাত থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের দেশে অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিক সাধারণত এটা করে না। দীর্ঘদিন এটা অব্যবহৃত পড়ে ছিল। কাটিংয়ের আগে রাসায়নিক ফ্রি করতে হয়। এখানে পাইপ কাটার জন্য যখন শ্রমিকেরা গেছেন সামনে যারা ছিল তারা মারা গেছেন, একটু দূরে যারা ছিলেন তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এটা মূল কারণ।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ৮ জনের লাশ চমেক হাসপাতালে আছে। আহতদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক আছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও