সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা: ঘাতকের পরিচয় জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

- Advertisement -

‘ঘাতক প্রায় এক বছর আগে এ ভবনের ৪র্থ তলায় এক মেয়ের সঙ্গে থাকত। আমরা জানতাম ঘাতক ও তার স্ত্রী মুসলিম। তারা নামাজও পড়ত। ঘাতকের মাথায় টুপিও থাকত, তার স্ত্রী পরিচয়ে মেয়েটি মাঝে মাঝে বোরকাও পড়ত; কিন্তু মা ও বোনদের হত্যার পর অন্তর মজুমদার নাম শুনেই আমি হতবাক।’

- Advertisement -shukee

দা দিয়ে মা ও  তিন বোনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া একমাত্র ছেলে কিশোর জুনায়েদ ইসলাম ওরফে সিফাত এসব কথা বলেন সাংবাদিকদের।

অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ছারামন উল্লাহ ইউনিয়নের চর ফজলুল করিম গ্রামের সুজিৎ মজুমদার ও আম্পরি মজুমদারের ছেলে।

এছাড়াও অন্তর তার এলাকায় কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে গ্রাম ও পরিবার থেকে বিতাড়িত। সে ইসকনের সদস্য ও বিবাহিত ছিল বলে জানান তার চাচাতো ভাই টিটু মজুমদার।

অন্তর মজুমদারের বিষয়ে সিফাত আরও বলেন- ‘অন্তর একসময় আমাদের ভবনের ওপরের তলায় ভাড়া থাকত। সেই কারণে দু-একবার কথা হয়েছে। এর বাইরে তার সঙ্গে আমাদের কোনো ঘনিষ্ঠতা বা বিরোধ ছিল না। মা ও তিন বোনকে হত্যার ঘটনায় অন্তরের নাম শুনে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। কেন সে এমন ঘটনা ঘটাবে, তা এখনো বুঝতে পারছি না।’

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তাঁর তিন মেয়েকে বাসায় ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

তবে তদন্তে বাসার ভেতরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভবনের বাইরে থেকে নিহতদের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে নতুন তথ্য হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে বিস্তারিত তল্লাশি চালায়। এ সময় ঘরের বিভিন্ন কক্ষ, আলমারি ও অন্যান্য স্থান পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ যেভাবে ছিল, সেভাবেই রয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে এটি লুটপাটের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

একই দিন ভবনের বাইরে পাশাপাশি থাকা দুটি ভবনের মাঝখানের সরু জায়গা থেকে নিহত শাহিনুর বেগম (৪০) ও তাঁর এক মেয়ের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮) মোবাইল ফোন দুটি সঙ্গে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হওয়ার সময় ফোন দুটি ওই স্থানে পড়ে যেতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন দুটির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের প্রস্তুতি চলছে।

পাশাপাশি অভিযুক্তের চলাফেরা, নিহতদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ঘটনার আগে-পরে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে খুনের ঘটনার সঙ্গে অন্তর মজুমদারের বাইরে আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি এলাকার মানুষের। বিকেলে রায়পুর পৌর শহরের শহীদ ওসমান চত্বরে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চেয়ে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‘রায়পুরের সাধারণ ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সব ধরনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও