মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ-পাচারের অভিযোগ

ইউসিবিএলের সাবেক দুই পরিচালক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) সাবেক ২ জন পরিচালককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন।

- Advertisement -

বুধবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন— এমন তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন।

- Advertisement -shukee

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক অপরূপ চৌধুরী (৬৫) ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬)।

তথ্য জানিয়ে দুদকের পিপি বলেন, ‘২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলার আসামি ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক অপরূপ চৌধুরী ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। মামলার ৩১ আসামির মধ্যে ২ জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এরা হলেন— ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম, যিনি জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী ছিলেন।

বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া আরও ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ১১ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আগামী ৫ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন— সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬), রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬), বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২), সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।

এছাড়া ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আসামি হিসেবে আছেন— মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫), আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮) নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও