শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটার কারণে যে কস্ট অব প্রডাক্ট বেড়ে যাচ্ছে, প্রডাকশন বেড়ে যাচ্ছে। বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়তেছে। এগুলোর অনেক কারণের মধ্যে একটি বন্দরকে নিয়ে যে কর্মকাণ্ড চলছে সেটি হচ্ছে একটি বিশেষ কারণ।

- Advertisement -

এটার সমাধান ইনশাআল্লাহ আমরা দিতে যাব। কিছু সমাধান আজ হয়েছে। কিছু শর্টটার্মে হবে। কিছু আলোচনার মাধ্যমে শেষ করব।

- Advertisement -shukee

নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন পর রিভিউ করবো। কারা এগুলো বাস্তবায়ন করেছে। কারা করেনি। তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের মেহেদিবাগে মন্ত্রীর বাসভবনে বন্দরের স্টেক হোল্ডারদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বৈঠকে সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতি ও এলপিজি অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক ২৪ ঘণ্টায় পণ্য খালাসের ব্যবস্থার দাবি জানান। এ সময় কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন পণ্যের নমুনা পরীক্ষাসহ নানা কারণে একাংশ আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে সময় লাগে বলে জানান। সব দিক বিবেচনা করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী চার দিনের মধ্যে শুল্কায়নের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

এ জন্য যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করতে নির্দেশনা দেন তিনি, যাতে দ্রুত সমাধান করা যায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে স্টেকহোল্ডাররা যার যার মতো করে একটা জীবন সৃষ্টি করছে। যার যার মতো করে তাদের একটা নিজস্ব বলয় (বাবল) সৃষ্টি করছে। এখানে দেখা যাচ্ছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার পেছনে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যে অ্যাক্টিভিটিস হচ্ছে তার অনেক কারণ আছে। অনেক স্টেক হোল্ডার আছেন। সবার সঙ্গে আমি বসেছি। প্রত্যেক পয়েন্ট দেখে দেখে কোথায় কোথায় সমস্যা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ। খালি দ্রব্যমূল্য তো না আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোর যে মালামাল আসছে, সার্বিকভাবে যে মালামাল আসছে, সবকিছুতে এটার প্রতিফলন ঘটছে। দেশের মানুষকে এটা পে করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন, শ্রমিক একেবারে সব স্টেকহোল্ডার যারা আছে সবাইকে নিয়ে বসেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে এগুলো আমরা বিবেচনা করছি কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন সমস্যা হচ্ছে। সমস্যার কারণে দাম বাড়ছে, কস্ট বাড়ছে। কস্টের কারণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশনে দাম বাড়ছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। আমরা অনেক সমাধান দিতে পেরেছি। অনেক সমস্যা সমাধানে কয়েকদিন সময় লাগবে। কারণ আন্তঃমন্ত্রণালয় কিছু বিষয় আছে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা আশা করছি, খুব সহসা এ সমস্যাগুলো সমাধান করলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে খুব গতি আসবে। সাথে সাথে বন্দরে যে পণ্যগুলো আছে সেগুলো তাড়াতাড়ি খালাস হবে। খালাস তাড়াতাড়ি করতে পারলে এগুলোর ওপরে যে আলাদা কস্ট আসছে তা কমে আসবে। আমরা চেষ্টা করছি, এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। বিশেষ করে এখন রোজার সময়। যে পণ্যগুলো আছে রোজার জন্য, সেগুলোর ডেলিভারি অনেক স্লো। এগুলো যত তাড়াতাড়ি আমরা ডেলিভারির ব্যবস্থা করাচ্ছি। ডেলিভারি কম থাকলে তো পণ্যের তো দাম বাড়তে থাকবে বাজারে। এটা একটা দিক আছে। সার্বিকভাবে অনেক সমস্যা আছে এখানে। কিছু সমাধান আজ দিতে পেরেছি। কিছু বাকি আছে। আর কিছু আলাপ আলোচনা বাকি রয়েছে। সেগুলো আমরা করব।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, এডিশনাল কমিশনার মোহাম্মদ তফছির উদ্দিন ভূঁঞা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, পোর্ট ইউজারস ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক, এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বন্দরের বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

একুশে বইমেলা শুরু ২৫ ফেব্রুয়ারি

এই বিভাগের আরও