চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুল হেলথ ক্লিনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (৩ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্কুল হেলথ কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ১৭০ জন শিক্ষার্থীকে চেকআপ করেন মেয়রসহ চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দেশের স্বনামধন্য শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, ডা. হোসনে আরা, সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আক্তার হোসেন, স্কুল হেলথ কার্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য ইমরানুল হক, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরী, সুকুমার দেবনাথ, অধ্যক্ষ মাহাফুজুর রহমানসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিশিষ্টজনেরা।
দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে ‘স্টুডেন্টস হেলথ কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা শুধু অভিভাবকদের দায়িত্ব নয়, প্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনেরও দায়িত্ব। প্রাথমিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের পাঁচটি বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমরা স্কুল হেলথ কার্ড কার্যক্রম শুরু করেছি। এই কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য স্কুলেও হেলথ কার্ড চালু করা হবে। এই হেলথ কার্ডের মাধ্যমে শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করছি আমরা।
“এসব তথ্যের আলোকে বাছাই করা ১৭০ জন শিক্ষার্থীকে আজকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হল। এই কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সেবার আওতা বাড়াতে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছি। এই হেলথ কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার চট্টগ্রামের অন্তত ১২টি স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক ল্যাবে ৪০ শতাংশ ছাড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, কোনো শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের সদস্য বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হলে সেখানেও বিশেষ ছাড় সুবিধা পাওয়া যাবে। “
মেয়র আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়নের পাশাপাশি হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আগাম রোগ শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে।
স্টুডেন্টস হেলথ কার্ডে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ, বিদ্যালয়ের নাম, শ্রেণি, অভিভাবকের নাম ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত মোট ১৪ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রেকর্ড এই কার্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওজন, উচ্চতা, দাঁত, চোখ-কান, ত্বক ও চুলের অবস্থা, রক্তচাপ এবং হিমোগ্লোবিনের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে। কার্ডের পৃথক অংশে টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যেখানে বিসিজি, পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, এমআর, পেন্টাভ্যালেন্ট, টায়ফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও র্যাবিসসহ গুরুত্বপূর্ণ টিকার রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে সচেতন করে ছোটবেলা থেকেই একটি সাস্টেইনেবল ও হেলদি সিটি গড়ে তোলার শিক্ষা দেওয়া হবে বলে জানান মেয়র।


