বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মিরসরাইয়ের শিক্ষার্থী কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে গিয়ে নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কক্সবাজার যান স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে বাকি ছাত্রছাত্রী ও স্কুল শিক্ষকেরা ফিরে আসলেও কক্সবাজারে নিখোঁজ  হয়ে যায় পূজা রানী দাস নামে এক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করেন শিক্ষকেরা। এদিকে মেয়েকে ফিরে পেতে স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কাছে যান নিখোঁজ পূজা রানীর বাবা অপু দাস। সে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মায়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনু ভূইয়াপাড়া এলাকার অপু দাশের মেয়ে। তারা একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকেন।

- Advertisement -

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দেখভাল করতে না পারলে কেন নিয়ে গিয়েছিল কক্সবাজারে? এ নিয়ে উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত বড় একটি শিক্ষা সফরে নিরাপত্তা ও তদারকির অভাব ছিল কিনা, তা নিয়ে সাধারণ অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

- Advertisement -shukee

জানা গেছে, গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১ টায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক কর্মচারীসহ ১৭৫ জন তিনটি বাসে আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয় থেকে কক্সবাজারের উদ্দশ্যে রওনা দেন। সেখান থেকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩ টায় ফেরার উদ্দেশ্যে সবাইকে বাসে উঠার নির্দেশনা দেয়া হয়। সেখানে তিন বাসে ৪/৫ জন না উঠলে তাদের ডেকে এনে বাসে উঠান শিক্ষা সফরে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা। সবশেষ পূজা দাশ নামের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে তাকে না পেয়ে শিক্ষকেরা বিভিন্ন যায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ করে আসেন। তবে জিডি করেই দায়িত্ব শেষ করে শিক্ষকেরা মিরসরাই ফিরে আসায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজ পূজার বাবা অপু দাস তার সন্তানকে ফিরে পেতে বারবার স্কুল প্রাঙ্গণে এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে ধরনা দিতে দেখা গেছে।

ওই শিক্ষার্থীর বাবা অপু চন্দ্র দাশ বলেন, আমরা অশিক্ষিত মানুষ। স্কুল থেকে পিকনিক নিয়ে গেছে কক্সবাজার। এতোগুলো ছেলেমেয়ে এতো দূরের পথে নিয়ে গেল কিন্তু প্রধানশিক্ষক গেলো না। তিনি এখন পর্যন্ত আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ ও করেননি। যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সহকারী শিক্ষক রতন বাবু তিনিও নাকি আসার সময় পথিমধ্যে নেমে যান এতোগুলো ছেলেমেয়ে রেখে। একজন শিক্ষক আমাকে ফোন করে বলে, পূজাকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমি বললাম আপনারা স্কুলের দায়িত্বে নিয়ে গিয়েছেন আবার আপনাদের দায়িত্বে আমার মেয়েকে ফেরত দিবেন। আমি কি সেখানে গিয়ে খুঁজে নিয়ে আসতে পারবো নাকি। দায় নিতে না পারলে আপনারা পিকনিকে কেন নিয়ে গেলেন। এমন দায়িত্বহীন কাজ কিভাবে করলেন।

শিক্ষা সফরে দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু রতনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে কথা বলা অবস্থায় কল কেটে দেন।

এবিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারকে ফোন দিলে তিনি ঝামেলায় আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

এ ব্যপারে জানতে আজ মঙ্গলবার বিকেলে  কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাটগাঁর বাণীকে বলেন, এখনও হদিস মিলেনি তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি উদ্ধারে। শিক্ষাসফরে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ওসি বলেন, মেয়েটার সাথে  কারো সম্পর্কও থাকতে পারে হয়তো।”

সর্বশেষ

র‌্যাবের নতুন নাম এসআইএফ

এই বিভাগের আরও