বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও টেক্সটাইল খাত বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাভুক্ত একক কাঠামোর রূপান্তর, বৈশ্বিক ট্যারিফ নীতির পরিবর্তন এবং নীতিগত নানামুখী বাধা মোকাবিলায় এখাতের প্রধান দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়নে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের অবদান অপরিসীম।
দেশের মোট ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশেরও বেশি আসে এই খাত থেকে। পাশাপাশি ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কর্মসংস্থানের প্রায় ৬০ শতাংশই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের অবদান।

বিসিআই সভাপতি বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হ্রাস পাওয়া এবং ‘টু-স্টেপ ডেরোগেশন’সহ বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। এ অবস্থায় বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যায়ন বা ডাইভারসিফিকেশন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ডিজিটালাইজেশনের মতো নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গতি আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তাই এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সার্বিক সংকট নিরসনে এবং নীতিগত সহায়তা প্রদানে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত ২৫টি মূল বাধার মধ্যে ১৫টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। বিটিএমএ এবং বিজিএমইএ যৌথভাবে কাজ করলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি স্থানীয় সুতা ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নগদ সহায়তা প্রদান করে স্পিনিং মিলগুলোকে টিকিয়ে রাখার যৌথ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক মানের মেশিনারি প্রদর্শনী বা ফেয়ারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তোলার পথ সুগম হয়। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত শক্তিশালী হলে দেশি টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা রাখবে।
ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কম বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ থাকে বলেই প্রতিযোগী দেশগুলো তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও যদি এই খাতের সব সংগঠন এক হয়ে নীতিগত কৌশল নির্ধারণ করে, তবে বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে।’

