সোমবার, ৪ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চরে ডেনমার্কের কোম্পানিকে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য এবং পানগাঁও টার্মিনাল সুইজারল্যান্ডের কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়ার অযৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ  রবিবার ( ১৬ নভেম্বর) নগরীর সিনেমা প্যালেস চত্বরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

- Advertisement -

বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত  সমাবেশে বক্তব্য রাখেন   সিপিবি জেলা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুচ্ছফা ভুঁইয়া,বাসদ জেলা ইনচার্জ  আল কাদেরি জয়, বাসদ জেলা সদস্য জসিম উদ্দিন।

- Advertisement -shukee

নেতৃবৃন্দ বলেন,“প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সর্বশেষ ভাষণে বলেছিলেন,সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে,জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার,সংস্কার ও যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন। অথচ আমরা দেখছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান উপদেষ্টার বর্ণিত এ তিনটি প্রধান কাজের বাইরে এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশী কোম্পানিকে লিজ দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।সন্দেহজনক তাড়াহুড়া, অনিয়ম এবং গোপনীয়তার মাধ্যমে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ডেনমার্কের কোম্পানি এপিএমের  কাছে ৪৮ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি যে,সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রথা ভেঙ্গে আযোজিত একনেকের সভায় একইসাথে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে চুক্তি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ছুটির দিনে এভাবে অনুমোদন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।  এ চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়নি এবং অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর সাথে বন্দর ব্যবহারকারীদেরকে কোনোভাবেই যুক্ত করা হয়নি। সরকারের এত তাড়াহুড়ো,গোপনীয়তা জনগণের মনে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কয়েকদিন আগে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বললেন, আমরা স্বাধীনতার এত বছরেও কোনো জাতীয় পোর্ট স্ট্র্যাটেজিক পলিসি তৈরি করতে পারিনি,এখন সরকার তা তৈরি করছে।তাহলে আমাদের প্রশ্ন,আপনি সে পলিসি তৈরি করুন,তা তৈরির আগে কেন এত তাড়াহুড়ো করে বিদেশীদের  লিজ দিতে হচ্ছে?  চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছতার সাথে, বন্দরের মতো কৌশলগত সম্পদ নিয়ে চুক্তি করার আগে চুক্তির শর্ত প্রকাশ করতে হবে, রাজনৈতিক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করতে হবে ও জনগণের সম্মতি লাগবে। আগামী নির্বাচনে যে সংসদ গঠিত হবে সেখানে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে। তার আগে বন্দর ইজারার কোনো চুক্তি করা যাবেনা।”

নেতৃবৃন্দ বলেন,“ বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিযে হয়। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি প্রধানতঃ চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নিভর্রশীল। বন্দরের মত কৌশলগত সম্পদ নিয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক লাভ দিয়ে বিচার করা যায়না,দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক-সামরিক নিরাপত্তা,ঝুঁকি ইত্যাদি অনেকগুলো স্পর্শকাতর বিষয় এর সাথে যুক্ত। বিশেষ করে যেখানে আমাদের একটিমাত্র প্রধান বন্দর সেখানে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে এর কোনো অংশ তুলে দেয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরেও কেন জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা হলো না? আমাদের কেন জাতীয় বন্দর নীতি (National Port Policy) নেই- যা সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, ভিয়েতনামের আছে? কেন সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার মতো বন্দর নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সক্ষমতা  গড়ে তোলা হলোনা? সে মৌলিক ভিত্তি তৈরির কোনো আয়োজন ছাড়া বন্দরের সব টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা বিদেশি কর্পোরেটদের হাতে ছেড়ে দিয়ে কীভাবে একসময় সারা বিশ্বের বন্দরখাতে আমরা নেতৃত্ব দেবো? অথচ প্রধান উপদেষ্টা সে ধরণের আকাশকুসুম কল্পনায় জনগণকে মাতিয়ে তুলতে চাইছেন।”

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও