চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। দিনরাত খাল-নালা, ড্রেন ও পানি প্রবাহ সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মেয়র।
রবিবার ( ৩মে) নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, যেসব স্থাপনা বা প্রতিবন্ধকতার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো অপসারণ করে খাল-নালা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণের ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “বৃষ্টির পানি জমে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে কিছু সড়ক নিচু হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিনের উন্নয়নকাজ, খাল প্রশস্তকরণ ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের কারণে কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। এসব সড়ক উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজগুলো বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা আরও কমে আসবে।”
মেয়র জানান, নগরীর অবশিষ্ট খালগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ চলছে। তিনি বলেন, “ডিপিপি অনুমোদন হলে আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু করা যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ সমাধান সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নগরীর ৩৭টি খালের পাশাপাশি চসিকের আওতাধীন আরও ২১টি খাল নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে বর্ষা মৌসুমে কিছু বড় প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “গত বছর আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছিলাম। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে এ বছর তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।”
পরিদর্শনকালে তিনি নগরীর ফ্রিফোর্ট সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়েও কথা বলেন। মেয়র জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর অধীনে বাস্তবায়নাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণকাজের কারণে ওই এলাকায় মাটি ফেলে রাখা হয়েছে, ফলে সড়ক সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ম্যাক্স গ্রুপ-কে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জমে থাকা মাটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। র্যাম্পের কাজ চলুক বা না চলুক, নগরবাসীর স্বার্থে আমরা দ্রুত ওই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেব।”
চসিক সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান খাল খনন, ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মেয়র নগরবাসীকে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়ে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
মেয়র বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই সচেতন হলে এবং চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তি পাবে।”


