চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এ এস এম ফজলুল করিম এর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে এক স্মরণ সভা ও স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠান আজ (৩ নভেম্বর) মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।

প্রফেসর এ এস এম ফজলুল করিম স্মরণে স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিএমডিসি’র সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ডা. ইমরান বিন ইউনূস।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ। স্মরণসভায় অডিও বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর এ এস এম ফজলুল করিম এর বড় ছেলে ডা. আহমেদ জিয়া করিম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ড. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, কার্যনির্বাহী কমিটির দাতা সদস্য মো. হারুন ইউসুফ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এ এস এম মোস্তাক আহমেদ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, ইনষ্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ এর পরিচালক ও নিওনেটলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. ওয়াজির আহমেদ, পরিচালক (মেডিকেল এ্যাফেয়ার্স) ডা. এ কে এম আশরাফুল করিম, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. এম জালাল উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি জনাব এম এ মালেক বলেন, “প্রফেসর এ এস এম ফজলুল করিম একজন কিংবদন্তীতুল্য চিকিৎসক। তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালর স্বপ্নদ্রষ্টা ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার সাথে আমরা এই হাসপাতালের উন্নয়নে দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করেছি। এই হাসপাতালর উন্নয়নে তার অবদান অপরিসীম। চট্টগ্রামবাসী তার এই অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে আজীবন স্মরণ রাখবে। তিনি আরো বলেন, যেকোনো ভালো কাজ বা ভালো কোনো উদ্যোগ কাউকে না কাউকে শুরু করতে হয়। করিম সাহেবেরা এই হাসপাতাল শুরু করেছে বলেই আজ এটি বিশাল এক মহিরুহ হিসেবে রূপ লাভ করেছে। হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে চিকিৎসাসেবা লাভ করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি মা ও শিশু হাসপাতালের ক্যান্সার হাসপাতালের সাথে কীভাবে যুক্ত হলেন তার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, এই ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য আমরা মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার অধিক অনুদান সংগ্রহ করেছি। আমি দেশ-বিদেশে যেখানেই গেছি সেখানেই ক্যান্সার হাসপাতালের কথা বলেছি এবং অনুদান সংগ্রহ করেছি। আজ এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি বিরাট সম্পদ। চট্টগ্রামের ক্যান্সার রোগীদের এখন আর ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের বাইরে যেতে হয় না। চট্টগ্রামে বসেই স্বল্প খরচে এই ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ক্যান্সার মেশিন কেনার জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়া হয়েছে তা সংগ্রহ করার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করবেন। প্রসঙ্গত তিনি উল্লেখ করেন, ক্যান্সার হাসপাতালে তিনি তার মায়ের নামে একটি ফ্লোর দিয়েছেন। আরো অনেকেই ক্যান্সার হাসপাতালে বিভিন্ন ফ্লোরের জন্য অনুদান দিয়েছেন। তিনি প্রফেসর এফ করিমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন একই সাথে তার সহধর্মিনী ডা. সাহেদা করিম এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন এই দোয়া করেন।
প্রধান অতিথি আজকের অনুষ্ঠানে প্রফেসর এ এস এম ফজলুল করিম স্মরণে “One world one health” শীর্ষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মারক বক্তৃতার জন্য প্রফেসর ডা. ইমরান বিন ইউনূসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অবস এন্ড গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপিকা ডা. ফারাহনাজ মাবুদ সিলভি। এ উপলক্ষে আজ সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

