বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

[the_ad id='15178']

সীতাকুণ্ডে সাংবাদিক লিটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মব সৃষ্টি করে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি সাংবাদিক লিটন কুমার চৌধুরীর উপর  বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। একাধিকবার থানায় মামলার এজাহার নিয়ে গেলেও পুলিশ এজাহার ফেরত দিয়েছে বলে অভিযোগ সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের। ওসির দাবি মব সৃষ্টি করে যে সকল ছেলে ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। তবে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের দাবি যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আর যারা এই ঘটনা ঘটাতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করেছে তাদের তথ্য প্রমাণ সব থানা পুলিশকে দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না।

- Advertisement -

ঘটনার একদিন পর হামলাকারীদের কাছ থেকে ওসি উদ্ধার করেছে লুটে নেয়া মোবাইল। তবে এখনো পর্যন্ত মানিব্যাগ ও টাকা উদ্ধার হয়নি। এদিকে এ ঘটনায় জাতীয় ও আঞ্চলিক যেসকল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেসকল সাংবাদিকদের হামলার ঘোষণা দিয়ে হুমকির দিচ্ছে মব সৃষ্টিতে ইন্ধনদাতা- সহযোগীরা। হামলার আশঙ্কায় দুইজন সাংবাদিক নিরাপত্তা ছেয়ে থানায় জিডিও করেছে।

- Advertisement -shukee

আহত সাংবাদিক কুমার চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এজাহারে আসামী করা হয়েছে ৯জনকে। তাদের তথ্য প্রমাণও থানার ওসিকে দেখানো হয়েছে। তারপরও কেনো মামলা নিচ্ছে না সেটা ওসিই ভালো জানে। তবে ওসি সাহেব মামলা নিবে সেটার আশা ছেড়ে দিয়েছি।

আহত অবস্থায় সাংবাদিক কুমার চৌধুরী

তিনি আরও বলেন, আমি স্বাধীনতার বিশ্বাসী একজন সংবাদকর্মী। কোনো রাজনৈতিক বলয়ে ছিলাম না। পূর্বে দৈনিক প্রথম আলো ও আজাদীতে কাজ করার সময় সব দলের নেতা কর্মিদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিলো।এখনো আছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন অনুসারী প্রতিদিন তাদের ফেসবুক ওয়ালে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু বলেন, সীতাকুণ্ডে দায়িত্বরত সাংবাদিকরা নানাভাবে নিযাতন, হামলা, অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। মামলার ভয় দেখিয়ে নানাভাবে হয়রানী করছে একটি চক্র- যা পেশাদারীত্বে হুমকির মধ্যে পড়ছে। তিনি থানায় দায়েরকৃত এজাহারটি মামলা হিসাবে রেকর্ড করার দাবিও জানান।

অনুসন্ধান তথ্যে জানা গেছে, সাংবাদিক লিটনের উপর হামলার ঘটনার পূর্বে আসাদ ও তার সহযোগীদের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লেখা একটি স্কিনশর্টে দেখা যায়, ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের নাম ‘আসাদ ভাইয়ের সমর্থক’।  ওই মেসেঞ্জার আইডিতে মো. আসাদ লিখেন” সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের অমানুষের বাচ্চা সাংবাদিকদের জন্য কিছুই করতে পারতেছি না। টাকা কামাইতে গেলে তথ্য পাই যায়”। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের দোসর ও হিন্দু সাংবাদিকরা এখনো এলাকায় থাকে কিভাবে।

শুভ নামে ওই গ্রুপের আরেক সদস্য প্রতি উত্তরে লিখেন, ”কালী পুজোতে লিটনরে দেখছি আসাদ ভাই, তারে কট দিলে কিছু টাকা কামাতে পারমু”। আসাদ ও শুভ দুই জনই স্থানীয় পৃথক দুই রাজনৈতিক দলের অনুসারী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে হামলার ঘটনার সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ১২টার সময় আসাদ তার ফেসবুক পেজে একটি মিছিলের ভিডিও আপলোড় করে। এতে ২০-২৫ জন যুবক দেখা যায়। তারা মিছিলে ‘আওয়ামী লীগ দালাল সাংবাদিক ধর, ধরে ধরে জবাই কর, ইসকন নিধন কর, সীতাকুণ্ড মুক্ত করসহ নানা শ্লোগান দেয় তারা।

ঘটনার দিন হামলাকারীরা সাংবাদিকের কাছ থেকে লুট করা  মুঠোফোনটি ঘটনার পরদিন সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মুজিবর রহমান উদ্ধার করে লিটনের ভাতিজা সুদীপ্ত চৌধুরী হাতে তুলে দেন।

সুদীপ্ত জানান,  সোমবার রাতে থানা থেকে মুঠোফোন আনতে ওসি ফোন করেন। পরে তিনি গিয়ে ওসির কাছ থেকে মুঠোফোনটি নিয়ে আসেন। তবে কার থেকে এই মুঠোফোনটি উদ্ধার হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ।

গত বুধবার (২২অক্টোবর) রাত ৮টায় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু ওসির সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার পর সময় নিয়ে এজাহার দায়ের করতে যান আহত সাংবাদিক লিটনসহ চার জন স্থানীয় সাংবাদিক। এসময় থানায় অবস্থান করতে দেখতে পান হামলাকারী আসাদ বাহিনী ও তাদের ব্যবহারকারীদের। এসময় থানায় ছিলেন না ওসি। মুঠোফোনে ওসি জানাই তিনি অসুস্থ চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে ডাক্তারের কাছে গেছেন। এজাহার নিয়ে অন্য দিন আসতে বলেন। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের চারজন নেতৃবৃন্দ থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করলেও ওসি মামলা রেকর্ড না করে ফেরৎ দেন।

গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় সীতাকুণ্ডের পৌরসদরস্থ কলেজ রোডের রেল গেট এলাকার নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সাংবাদিক লিটন কুমার চৌধুরীর উপর  স্থানীয় চিহ্নিত  ১০/১২  জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের অশালীন স্লোগান দিয়ে মারতে মারতে সীতাকুণ্ড থানায় নিয়ে যান। এ সময় সন্ত্রাসী আসাদ ও তার সহযোগীরা লিটনকে সীতাকুণ্ড থানায় নিয়ে পুলিশকে গ্রেপ্তার করতে বলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের জানিয়ে দেয়, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। পরে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকেরা পুলিশের সহায়তায় তাঁকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তিনদিন মেডিকেলে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে চট্টগ্রামে এক আত্নীয়র বাসায় অবস্থান করছেন তিনি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও