শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিশুসাহিত্যিকদের মিলনমেলা চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুসাহিত্যিকদের দুদিনব্যাপী মিলনমেলা বসেছে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ।

- Advertisement -

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক।

- Advertisement -shukee

তিনি বলেন, শিশুর প্রতি ভালোবাসা শিশুসাহিত্য রচনার পূর্বশর্ত। শিশু যেকোনো জিনিস দেখলে ধরতে চায়, ছুঁতে চায়। ওরা খেলতে চায়। টেলিভিশন দেখতে চায়। তাদের আগ্রহ ও আনন্দের জায়গাটুকু খবর রাখতে হয় শিশুসাহিত্যিকদের। বলা যেতে পারে, শিশু মনস্তত্ত্ব আয়ত্ত করে নেয়া জরুরি। শিশুসাহিত্য যেন শিশুর আনন্দসঙ্গী হয়ে ওঠে, তার জন্য ভাবতে হবে শিশুসাহিত্যিকদের।

শুধু শিশুসাহিত্য নয়, যেকোনো ধরনের রচনার বড় একটি গুণ হলো সহজ ও সরল রচনারীতি। শিশুসাহিত্যে এই সারল্য প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃত। ইচ্ছে করলেই লেখাকে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায় না। তার জন্যও প্রয়োজন সাধনা। রচনার সহজ রীতির এই বৈশিষ্ট্যটি লেখকের মানসিকতা, উপলব্ধি ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে। সহজ ও সরল রীতি আয়ত্ত করা কঠিন একটা কাজ। এই কঠিন কাজটি নিজের কব্জায় আনার জন্য প্রয়োজন অনুশীলন। অবিরাম চর্চার মধ্য দিয়ে লেখকরা তাঁদের রচনাকে সরল, সহজ, সরস ও আকর্ষণীয় করে তোলেন।

ভালো কাজের মাধ্যমে আমাদের সমাজে আলো বিলিয়ে দিতে হবে। একাগ্রচিত্তে কাজের মধ্যে লেগে থাকতে হবে। তাহলে একদিন সেই কাজে সফলতা আসবে। শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন বাদ দিয়ে বই তুলে দিতে হবে।

বাচিক শিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় উদ্বোধন পর্বে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিশুশিল্পীরা। এ পর্বে মো. মাজহারুল হক ও ঢালী মোহাম্মদ শোয়ায়েব নজীরকে বইয়ের পৃষ্ঠপোষক সম্মাননা দেয়া হয়।

মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামালের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য: সৃজনে মননে কতটা যুগোপযোগী’ শিরোনামে উদ্বোধনী আলোচনায় অংশ নেন ছড়াকার আনজীর লিটন, কথাসাাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, শিশুসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ, সুজন বড়ুয়া, কবি রহীম শাহ।

স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ।

আনজীর লিটন বলেন, শিশুসাহিত্যই হচ্ছে মূল সাহিত্যের প্রধান অংশ। আর  শিশুদের জন্য রচিত সব সাহিত্য নিটোল সাহিত্য বলে বিবেচিত। শিশুসাহিত্য হলো এমন সাহিত্য যেখানে কোনো কুসংস্কার থাকতে পারবে না। তাদের জন্য সবসময় যুগোপযোগী সাহিত্য রচনা করতে হবে। প্রকৃত সাহিত্যিকরা কখনো টিকটকার হতে পারে না।

রফিকুর রশীদ বলেন, আমাদের শিশুরা কী চায়, কী ভালোবাসে সে ভাবনা মাথায় রাখতে হবে আমাদের শিশুসাহিত্যিকদের। কারণ শিশুদের জগতটাকে আর ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। শিশুরা কল্পনায় মাঝে ভাসতে চায়, তাদের ভুবন বিস্তীর্ণ ও রঙিন। তাই শিশুদের জন্য লিখতে হবে কল্পনা জাগানো এমন লেখা। যেন তারা বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

মোহিত কামাল বলেন, আজকের এই শিশুসাহিত্য উৎসব কেবল সাহিত্যিক মিলনমেলা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক গভীর দায়বোধেরও উৎসব। প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে আমরা এমন এক সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, যখন একদম শিশুতোষ কাল থেকে সন্তানের হাতে প্রথম ধরা পড়ে মোবাইল ফোন, বই নয়।

ছড়াপাঠে অংশ নেন বিপুল বড়ুয়া, আবুল কালাম বেলাল, এয়াকুব সৈয়দ, কেশব জিপসী, জসীম মেহবুব, সনজীব বড়ুয়া, সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও