চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ভেতরে রবিবার (১৩ অক্টোবর) পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (পিসিআইইউ) জার্নালিজম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (পিজা) সদস্য এবং যমুনা টেলিভিশন চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ক্যামেরা জার্নালিস্ট আসাদুজ্জামান লিমনের ওপর হামলা করে সিএমপির উত্তর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম। তার এই জঘণ্য কর্মকাণ্ডে অনতিবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার ও তার অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছে পিজা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরীর চেরাগী পাহাড় চত্ত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ এই দাবি জানানো হয়।

পিজার সভাপতি ইমরান বিন ছবুরের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য হামিদ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় সমাবেশে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, খুলশী থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ক্যামেরা জার্নালিস্ট আসাদুজ্জামান লিমন এর ওপর চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) (উত্তর জোনের) ডিসি আমিরুল ইসলামের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই পুলিশ প্রশাসন বার বার আমাদের সাংবাদিক সহযোদ্ধাদের প্রতি যে বর্বর ঘৃণ্য আচরণ করে যাচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পিজার সভাপতি ইমরান বিন ছবুর বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যখন পুলিশের ভাবমূর্তি একদম তলানিতে ছিল তখন তারা মুখ দেখাতে পারছিল না, তখন তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আমাদের সংবাদকর্মীরা। আর এখন তারাই আমাদের এই সহযোদ্ধাদের ওপর হামলা করছে। অবিলম্বে এই পুলিশ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া না হলে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
পিজার সিনিয়র সহ-সভাপতি তাপস বড়ুয়া বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তারা সমাজের সত্য তুলে ধরেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন। অথচ সেই সাংবাদিকদেরই যদি হয়রানি, মারধর বা ভয় দেখানো হয়- তাহলে জনগণের অধিকার কোথায় নিরাপদ থাকবে? আমাদের যমুনা টেলিভিশনের দুই সহযোদ্ধার ওপর পুলিশি হামলার বিচার না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
সমাবেশ পিজার সাবেক আহবায়ক পার্থ প্রতীম নন্দী বলেন, খুলশী থানায় আমাদের যে দুই সহযোদ্ধাদের ওপর ন্যাক্কারজনক পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে, তা শুধু দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, তা পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর আঘাত। এই আঘাত সাংবাদিক সমাজের কণ্ঠরোধের এক ভয়াবহ উদাহরণ। অবিলম্বে এই পুলিশের ডিসি আমিরুল ইসলামকে যতোক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না ততোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন সমাবেশ চলমান থাকবে।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম-সম্পাদক ইব্রাহীম জুলহাজ (নীল), সদস্য পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম (ইমন), পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রবিন দাস গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত চৌধুরী, আরিফুল ইসলাম তামিম, পিজার সদস্য হাসিবুল আলম ও বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- সিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সুবল বড়ুয়া, পিজার কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আহমদ, সহ-সভাপতি মিশু পাল, অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত আলম (রিমন), প্রচার, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন, চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিক এবং পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রমুখ।

