সোমবার, ৪ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ (২০ আগস্ট)সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা কাজির দেউরির নেভাল এভিনিউ’র অফিসার্স ক্লাবে সমিতির তত্ত্বাবধায় কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির ইতিহাসে সাধারণ সভায় এত লোকের উপস্থিতি অতীতে কখনো হয়নি। বিপুলসংখ্যক আজীবন সদস্যের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল  বেশ নজরকাড়া। পাঁচশতাধিক জীবন সদস্যের আনোগোনায় অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে। অফিস-আদালত খোলা থাকায় আরও বহু জীবন-সদস্য এ সভায় উপস্থিত হতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়। বিগত ২০বছরে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির এজিএমে হাসপাতালের কর্মচারিসহ ৫০/৬০ জনের বেশি মানুষ কখনো উপস্থিত ছিল না। অনুগত লোকদের সাধারণ সভায় উপস্থিত করে নিজের অপকর্মের বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা করেছেন দুর্নীতির দায়ে বহিস্কৃত সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

- Advertisement -

সমিতির আয়-ব্যয় হিসাব, জীবন-সদস্য তালিকা হালনাগাদ এবং ছবিযুক্তকরণ, নির্বাচনের তারিখ ও কেন্দ্র নির্ধারণ এবং বিবিধ আলোচ্যসূচির আলোকে উপস্থিত জীবন-সদস্যরা হাসপাতালকে দুর্নীতিমুক্ত,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু প্রস্তাব উত্থাপন করেন জরুরি এ সভায়। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৩ এর সমাজসেবা অফিসার আশরাফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির তত্ত্বাবধায় কমিটির  সদস্যসচিব চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ঊর্বশী দেওয়ান, সদস্য চট্টগ্রাম ডেপুটি  সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার ও সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন, সমিতির আজীবন সদস্য হৃদরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শফিউল আজম, সাবেক ব্যাংকার মোরশেদুল আলম কাদেরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাফর আলম, মাস্টার আবুল কাশেম, রোটারিয়ান এমদাদুল আজিজ চৌধুরী, কমান্ডার শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম, গিয়াসউদ্দিন একরামুল করিম চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার মিলন, ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, হাফেজ মোহাম্মদ আমানউল্লাহ প্রমুখ।

- Advertisement -shukee

ডা. শফিউল আজম সমিতির গঠনতন্ত্র থেকে সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদাধিকার বলে পরবর্তী কমিটির সদস্য হওয়ার কালাকানুন বাতিলের প্রস্তাব করলে সকলেই সমর্থন করেন। মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ৪বছরের স্থলে ২বছর করার প্রস্তাব করেন। সাহাবুদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্রে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে একই ব্যক্তি দুমেয়াদের বেশি থাকতে পারবে না- এমন নিয়ম গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করলে জীবন-সদস্যরা সকলেই তা সমর্থন করেন। তিনি হাসপাতাল কর্মচারিদের যারা সমিতির জীবন-সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রদানের প্রস্তাব করলে তা-ও উপস্থিত সকলেই সমর্থন করেন। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্তে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও তার সহযোগীদের সদস্য পদ বাতিল ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হলে জীবন-সদস্যরা জোরালো সমর্থন জানান। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক কমিটির বিরুদ্ধে কেউ রিট বা মামলা করলে তার ব্যয়ভার চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি বহন করবে- সাহাবুদ্দিন চৌধুরীর এমন প্রস্তাব করলে সেটিও সকলে সমর্থন করেন।

এদিকে উচ্চআদালতের রায়কে অবমাননা ও সরকারি তত্ত্বাবধায়ক কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী গতকাল (১৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সিনিয়রস ক্লাবে সংবাদ-সম্মেলন আহবান করে সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজেকে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির বৈধ সভাপতি দাবী করে বলেন, আমার বর্তমান কমিটি বৈধ কমিটি। এ কমিটি ২০২৪ থেকে ২০২৮ মেয়াদের জন্যে গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচিত হয়েছে। বৈধ কমিটি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সরকার কোনোভাবে তত্ত্বাবধায়ক বা অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারে না। তিনি তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে, অ্যাডহক কমিটি বাতিল করতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বৈধ কমিটির হাতে সমিতির দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে এবং যারা হাসপাতালবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে, মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে অ্যাডহক কমিটি রয়েছে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ, বেআইনী ও গঠনতন্ত্রবিরোধী। এছাড়া তিনি হাসপাতালের কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করেননি-এমন দাবীও করেন।
কথায় বলে- চোরের মা’র বড়গলা। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি তিনি নিজেকে সৎ দাবী করেন-তাতে কারো কিছু বলার নেই। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে গঠিত সমিতির সকল নির্বাহী কমিটিকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় আইনগতভাবে জাহাঙ্গীর চৌধুরী চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি নন। অথচ সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন। উচ্চআদালতের রায়ের আলোকে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তত্ত্বাবধায়ক কমিটিকে তিনি অবৈধ কমিটি বলার মতো দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আজীবন সদস্য। দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তার তো নৈতিকভাবে আজীবন সদস্য থাকাও সমীচীন নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিয়োগ অনুসন্ধান করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির আলামত পেয়েছে- যা দুদুকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীর চৌধুরীর রিট খারিজ করে দেয়ায় তার নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অপশাসনের হাত থেকে রেহাই পায় চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী কিছু আজীবন সদস্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষে নিজের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আইনী লড়াইয়ে জিতে হাসপাতাল পরিচালনায় সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে হাসপাতাল পরিচালনার জন্যে সমিতির নির্বাহী কোনো কমিটি নেই। চট্টগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের তত্বাবধায়ক কমিটি হাসপাতাল পরিচালনা করছে। তিনমাসের মধ্যে এ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও