রবিবার, ৩ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্র চট্টগ্রাম এর সভায় আলোচকেরা যা বলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্র চট্টগ্রাম এর এক সভা শুক্রবার (১ আগস্ট) চকবাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, দেশে শাসনকাঠামো সংষ্কারের যেসব প্রস্তাবনা আসছে তা কেবলমাত্র রাজনৈতিক দলের স্বার্থই রক্ষা করবে। এই রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই দীর্ঘ বছর বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় থেকেও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যের কোনটিই বাস্তবায়িত করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যসমুহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অনেক আগেই একটি বৈষম্যহীন অথবা কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত হতো। বঙ্গবন্ধুর নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে এই সত্য স্বীকার করেই বক্তারা বলেন , দুই একটি দল বাদে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি হারে অংশ নিয়েছিল দেশের কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবী, পেশাজীবী ও তাদের সন্তানরা। মুলত তারাই অস্ত্র ধরেছিল , গণহারে প্রাণ দিয়েছিল ও সম্ভ্রম দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধশেষে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারি সব রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে, কৃষি, শ্রম, কর্ম, পেশার যারা এবং তাদের সন্তান ছাত্র যুবকরা যারা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তাদের সবাইকে বাদ দিয়ে প্রথমে তাজুদ্দিন আহমদ ও পরে বঙ্গবন্ধু কেবল মাত্র আওয়ামী লীগের একক সরকার গঠন করেন এবং ৭২ সালে একটি সংবিধান দেন। সংবিধানে রাষ্ট্রের লক্ষ্যসমুহে সাধারণ জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি দিলেও তা বাস্তবায়নের জন্য হুবহু ব্রিটিশ পাকিস্তানি শাসন কাঠামোর প্রবর্তন করেন। এরই ফলে জনগণ স্বাধীনতার পর থেকেই দেখে আসছে যে দল যখন ক্ষমতায় যায় দেশটি তখন তাদের হয়ে যায়। তারা অবাধে খুন,গুম, লুটপাটসহ যা ইচ্ছে তাই করে সম্পদ সংগ্রহ করে অবাধে বিদেশে পাচার করে। প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের কোনো কাজে বাধা দিতে পারে না। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে বক্তারা বলেন, সমস্যার সমাধান হলো দেশের কৃষক শ্রমিক, কর্মজীবী পেশাজীবীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার করা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সকল সাধারণ ও শ্রম কর্ম পেশার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করে তাদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা, সংবিধানের ৪৮/৩ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির ক্ষতা রাষ্ট্রপতিকে ফিরিয়ে দেয়া যাতে তিনি সকল সাংবিধানিক সংস্থার সদস্য যেমন বিচারক, নির্বাচন কমিশনার ইত্যাদি পদে নিয়োগ দিতে পারেন, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও সচিবদের জবাবদিহিতার অধীনে নেয়া, মন্ত্রী নিয়োগে ও বিদায়ে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির মতামত নেয়া, সংবিধানের ৫৯, ৬০ অনুচ্ছেদ ও ১৯৭৮ সালের সংশোধিত ৯ অনুচ্ছেদ মেনে স্থানীয় সরকার গঠন ও ক্ষমতায়ন করা এবং সেই আলোকে বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডকে প্রাথমিক প্রশাসনিক ইউনিট ঘোষণা করা, প্রতিটি ইউনিয়নকে ৩টি গ্রামে ও ওয়ার্ডকে ৩টি মহল্লায় ভাগ করে সেগুলোকে সহযোগী প্রাথমিক প্রশাসনিক ইউনিট ঘোষণা করে রাষ্ট্রের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব এইসব ইউনিটের কাছে দেয়াসহ জনগণের ক্ষমতায়ন ও দেশকে গণতান্ত্রিক করার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ইউনিটের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী রাখা, স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি প্রাথমিক প্রশাসনিক ইউনিটে জরুরী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, কর আদায় সহজ লভ্য করতে কর আদায়ের দায়িত্ব প্রাথমিক ইউনিটের কাছে দেয়া, প্রতিটি নাগরিক ও তার সন্তানদের মাধ্যমিক শিক্ষা মানে এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিটে পর্যাপ্ত পরিমানে স্কুল স্থাপন ও একই স্কুলে ধনী গরীব, মন্ত্রী থেকে পিয়নের ছেলে মেয়েকে পড়ানোর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব এই ইউনিটকে দেয়াসহ ইউনিটের গঠন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেন। বক্তারা সেই এলাকার কৃষি, শ্রম, কর্ম পেশার নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবেন। একইভাবে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ গঠন করতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব হবে প্রাথমিক প্রশাসনিক ইউনিটকে সহায়তা করা। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শ্রম কর্ম পেশার লোকদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকবে। মন্ত্রীর দায়িত্ব হবে সেই কমিটির মতামত সাপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়া। প্রধানমন্ত্রীর কাজ হবে মন্ত্রণালয়সমুহের মাঝে সমম্বয় সাধন করা। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হবে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারসমূহ বিধিবিধান মেনে কাজ করছে কি না- তার তদারকি করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক সংস্থাসমূহের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

- Advertisement -

সভায় প্রতীকভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে নিম্ন কক্ষ গঠনের দাবি জানিয়ে বলা হয়,কোনো দল এককভাবে ৫০ ভাগের ওপর ভোট না পেলে ১ম ও ২য় ভোটপ্রাপ্ত দুটো দলের মাঝে আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এইভাবে সংখাগুরুর শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। নিম্ন কক্ষ সরকার গঠন করবে।বক্তারা জানান, এলাকাভিত্তিক নির্বাচনে সব নির্বাচনে সংখ্যালঘুর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ছিল গণতান্ত্রিক রীতির খেলাপ।
সভায় কৃষি শ্রম কর্ম পেশার প্রতিনিধি, জেলা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভার প্রতিনিধি, নিম্ন কক্ষ থেকে কিছু প্রতিনিধি নিয়ে উচ্চ কক্ষ গঠনের দাবি জানানো হয়। উচ্চ কক্ষের দায়িত্ব থাকবে সরকার যাতে স্বৈরাচারি হতে না পারে তার যাবতীয় ব্যবস্থা করা ও গণবিরোধী আইন পাশে বাধা দান।
বক্তারা বলেন, তাদের দেয়া প্রস্তাব সবার গ্রহণ করতে হবে এমন নয়। ভিন্ন মতও আসতে পারে। তবে ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামো বদলিয়ে স্বাধীন দেশের উপযোগী শাসন কাঠামোর প্রবর্তণ করতেই হবে। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্র- যুব সংগঠন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসবেন এবং আন্দোলন গড়ে তুলবেন এমনটি আশা করেছেন সব বক্তা।
মাস্টার নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাহফুজুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা আজম সাদেক, মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আহম নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, ড. শিব প্রসাদ সুর, ইউসুফ মোহাম্মদ, রিজওয়ানুর রহমান খান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, মুক্তিযোদ্ধা শফিখান, মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মামুন, মুক্তিযোদ্ধা সুজাউদ্দোলা বাবুল,হাসিনা আকতার, আবু জাফর মাহমুদ, মোরশেদুল আলম,মো নুরুল হাদী,মো হাকিম মোল্লা, রোকনউদ্দিন আহমদ, এএসএম কামরুল ইসলাম, সিঞ্চন ভৌমিক, নুরুল হুদা, আবদুল মাবুদ, আইয়ুব আলী, সায়েমউদ্দিন, মো নুরুল কাদের,নাফিজ সালেহীন, আমানুল্লাহ খান, এম নুরুল হুদা চৌধুরী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রের সদস্যসচিব মশিউর রহমান খান।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখছেন ডা.মাহফুজুর রহমান

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও